
দেকার্তের মতে, ধারণার প্রকারভেদ উদাহরসহ লেখ।
সাধারণ ভাষায় “ধারণা” শব্দটি অতি পরিচিত। কিন্তু এর আধুনিক প্রয়োগ ঘটেছে দেকার্তের দর্শনে। দেকার্ত শব্দটির নতুন অর্থ দিয়ে বলেছেন প্রত্যেক অর্থপূর্ন শব্দের অনুরূপ কোন ধারণা আছে। তাঁর মতে, কোন ব্যক্তি ‘ক’ -এর ধারণা থাকার পর্যাপ্ত শর্ত হল ব্যক্তিটি জানে ‘ক’ এর জন্য কীভাবে কোন শব্দ বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রয়োগ করতে হবে। তবে একথার অর্থ এই নয় যে, শব্দ ও ধারণার মধ্যে এক আনুরূপ্য বর্তমান।
দেকার্ত তাঁর “Meditations” গ্রন্থে তিনপ্রকার ধারণার অস্তিত্ব স্বীকার করেন যথা – i. আগন্তুক ii. কৃত্রিম ও iii. সহজাত ধারণা।
যে সকল ধারণা আমরা বাইরের জগত থেকে লাভ করি অর্থাৎ যে সকল ধারণার উৎস বাহ্য জগত সেগুলিকে দেকার্ত আগন্তুক ধারণা বলেছেন। যেমন – নদ – নদী , পাহাড় ,পর্বত ইত্যাদি ধারণা।
অপরদিকে, যে সকল ধারণা আমাদের মনে সৃষ্টি, আমাদের কল্পনা যে সকল ধারণার উৎস সেই সব ধারণাকে দেকার্ত কৃত্রিম ধারণা বলেন। যেমন – মৎস্য কন্যার ধারণা, পক্ষীরাজ ঘোড়া, একশৃঙ্গ ঘোড়ার ধারণা ইত্যাদি। এই ধারণাগুলি সমস্ত ক্ষেত্রেই বাস্তবত মিথ্যা।
অপরদিকে, যে সকল ধারণা মন তার নিজের প্রকৃতি থেকে লাভ করে, যে সব ধারণা বুদ্ধির স্বাভাবিক আলোক পাওয়া যায় সেই সব ধারণাকে দেকার্ত সহজাত ধারণা বলেছেন। এই সকল ধারণার বিরোধী ধারণা প্রকাশ করা যায়না। কেননা এক্ষেত্রে চিন্তার জগতে স্ববিরোধিতা দেখা দেয়। যুক্তি শাস্ত্রের তাদত্ম্য নিয়মের ধারণাটি দেকার্তের মতে সহজাত ধারণা দেকার্ত সহজাত ধারণার কোন সুনির্দিষ্ট তালিকা উল্লেখ না করলেও কয়েকটি ধারণাকে সহজাত বলেছেন, যেমন – ঈশ্বরের ধারণা, গণিতের ধারণা, চিন্তার মূল সূত্রের ধারণা ইত্যাদি।
Thanks For Reading: ডেকার্টের মতে ধারণা কত প্রকার ও কি কি।
Read More: