প্রাক-সক্রেটিস দর্শন |পাশ্চাত্য দর্শনের সূচনা

প্রাক-সক্রেটিস দর্শন |পাশ্চাত্য দর্শনের সূচনা

পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে প্রাক-সক্রেটিস দর্শন (Pre-Socratic Philosophy) একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সক্রেটিসের পূর্ববর্তী গ্রিক দার্শনিকরা  তাদের  যুক্তি, পর্যবেক্ষণ এবং চিন্তার মাধ্যমে বিশ্বজগতের রহস্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তারা পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার পরিবর্তে প্রকৃতির নিয়ম এবং বাস্তবতার মৌলিক উপাদান অনুসন্ধান করেন।

আজকের বিজ্ঞান ও দর্শনের অনেক মৌলিক ধারণার ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই প্রাক-সক্রেটিস দার্শনিকদের চিন্তাধারার উপর।

প্রাক-সক্রেটিস দর্শনের প্রধান দার্শনিকগণ
প্রাক-সক্রেটিস দর্শনের প্রধান দার্শনিকগণ

 

প্রাক-সক্রেটিস দর্শন (Pre-Socratic Philosophy): পাশ্চাত্য দর্শনের সূচনা ও প্রধান দার্শনিকদের চিন্তাধারা

পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে প্রাক-সক্রেটিস দর্শন এর বিভিন্ন দার্শনিকদের চিন্তাধারার  নিন্মে আলচনা  করা হল-

১. Thales – এর মতবাদ

গ্রীক দর্শনের আদিমতম দার্শনিক হলেন Thales. Thales এর মতে, জগতের আদিকারন হল জল। জলই হল একমাত্র ভূত দ্রব্য (material substance) জল থেকেই জগতের সমস্ত কিছুর উৎপত্তি এবং বিনাশ ঘটলে তা জলেই পরিণত হয়। সমগ্র জগৎ বা পৃথিবীটা জলের উপর ভাসমান। এখন প্রশ্ন হল Thales কেন জলকে জগতের আদি কারণ বলেছেন?

Thales এর লিখিত কোন মতবাদ পাওয়া যায় না। বিভিন্ন দার্শনিকদের মতবাদ থেকেই Thales এর এমন চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। এ প্রসঙ্গে বার্নেট রাসেল বলেছিলেন যে, Thales সম্ভবত এইসব চিন্তা ভাবনার দ্বারাই প্রাভাবিত হয়েছিলেন।

বৈজ্ঞানিক মতবাদ-

i কোন রকম পরীক্ষামূলক যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই খালি চোখে জলকে দেখা যায়।

ii জল এমনই একটি দ্রব্য যা স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে সাথে জলীয়, বায়বীয় ও কখনো কঠিন মাধ্যমে যেতে পারে। Barnet Rassel দেখিয়ে ছিলেন যে, Thales এর সময়ে কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ছিল না। জলকে খালি চোখে প্রত্যক্ষ করা যায়। এমন সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখার দিক থেকে সম্ভবতঃ Thales জলকে আদি কারণ বলেছেন।

তাছাড়া বার্নেট রাসেল বলেছিলেন, হাইড্রোজেন পরমানু থেকেই জগতের সব কিছুর উৎপত্তি হয়েছে। আর জলের উপাদান হল হাইড্রোজেন পরমানু, তাই বলা যায় জল থেকেই জগতের সমস্ত কিছুর উৎপত্তি হয়েছে। এমন সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতেই সম্ভবত Thales জলকে আদি কারণ বলেছিলেন।

দার্শনিক মতবাদ

অ্যারিস্টটল দার্শনিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে থেলস্‌ এর বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, থেলস এর বক্তব্য দুটি যুক্তির দ্বারা সমর্থিত হয় এক মানুষের বৃদ্ধি যে পুষ্টির মাধ্যমে হয় তার পিছনে রয়েছে আর্দ্রতা দুই প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন আর্দ্রতা। এই আর্দ্রতা আমরা পাই জল থেকে। তাই জল ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। তাই অসুস্থুতার কারণে দেহ শীতল হয়ে পড়লে দেহকে আর্দ্র করার প্রয়োজন হয়।

গ্রীক মাইথোলজি

গ্রীক মাইথোলজিতেও Thales এর সমর্থনে একটি মতবাদ লক্ষ্য করা যায়। গ্রীক মাইথোজিতে বলা হয়েছে যে, Ocean as   (সমুদ্র) ও Tethys ( নদী) এই দুটি হল জগতের সমস্ত কিছুর কর্তা। এদের আধার হল জল, আর তা থেকেই জগতের সমস্ত কিছুর উৎপত্তির হয়েছে। সুতরাং, জলই হল জগতের আদি কারণ।

Anaximenes 

অ্যানাক্সিমিনিস্‌ এ বিষয়ে থেলস এর সঙ্গে একমত যে জগতের প্রাথমিক সূত্রটি কোননা কোন ধরনের জড়বস্তু হবে। Anaximenes বলেন, বায়ু থেকেই জগতের সমস্ত কিছুর উৎপত্তি এবং ধ্বংস হলে বায়ুতে পরিণত হবে। বায়ু জলের পূর্ববর্তী কারণ বায়ু থেকেই জলের উদ্ভব।

তাঁর মতে, বায়ু কখনও ঘনীভূত হয়, কখনও হালকা হয়, আবার কখনও ঠান্ডা হয়, কখনও গরম হতে পারে। কিন্তু এ সকল পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও বায়ু তরে নিজ ধর্মকে অপরিবর্তিত রাখে। বায়ু আদি অন্তহীনভাবে প্রবহমান। মূলতঃ দুধরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়ে জাগতিক বস্তু সমূহের উৎপত্তি হয়। একটি হল ত্নুভব (হালকা হয়ে যাওয়া বা ছেড়ে ছেড়ে যাওয়া) এবং দ্বিতীয়টি হল ঘনীভবন, বায়ু যখন ত্নুভব হয় তখন তার থেকে উৎপত্তি হয় আগুন এবং যখন ঘনীভূত হয় তখন ক্রমপর্যায়ে এইসব জাগতিক বস্তুর উৎপত্তি হয়। Wind → Cloud → Water → Earth → Stone.

Heraclitus 

প্রাচীন অপর একজন একাত্ববাদী দার্শনিক হলেন Heraclitus। তিনি বলেন জগতের আদিকারণ জলও নয়, বায়ু নয় – জগতের আদি কারণ হল অগ্নি , যার জল ও বায়ুর থেকে স্বতন্ত্র নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। তিনি বলেন সমস্ত জগৎটা এক প্রজ্বলিত অগ্নি স্বরূপ। অগ্নির ধর্ম হল প্রজ্বলিত ও সদা প্রবাহমান।

“সবই অবিরত পরিবর্তনশীল” –  এই উক্তি আনুসারে-

জগৎ অগ্নির মতো সদা প্রবহমান, নিরন্তর এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয়ে চলেছে। এই বক্তব্যকে ‘bactrive of flux’ বলা হয়। জগতের প্রতিটি বস্তু অগ্নির সাথে বিনিময়যোগ্য অর্থাৎ সকল কিছুর মধ্যে অগ্নির ধর্ম নিহিত থাকে। সদা প্রজ্বলিত অগ্নির উৎপত্তি ও বিনাশকাল সদা পরিবর্তনশীল।

এই পরিবর্তন দুভাবে হয় – এক অধোগতি ও ঊদ্বগতি। অগ্নির অধোগতির ফলে প্রথম জল, পরে পৃথিবী এবং পৃথিবী থেকে জগতের অন্যান্য বস্তু সমূহের উৎপত্তি হয়। আবার পৃথিবীর ঊদ্বগতির ফলে প্রথমে জল ও পরে অগ্নিতে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং অগ্নিকে আদি কারণ বলে Heraclitus এইভাবে জগতের বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করেছেন।

Fire

Water         Evolution of world

Earth

Others

পারমেনাইডিস (Parmenides) 

পারমেনাইডিস ছিলেন সেনোফেনস এর ছাত্র ও একাত্ববাদের প্রদারক। তিনি বলেন জগতের আদি কারণ হল এক ও অদ্বিতীয় এবং তা হল সত্ত্বা (Being)। তাঁর মতে, সত্ত্বা কোন বিমূর্ত বস্তু নয়, এটি বিস্মৃতিযুক্ত জড়বস্তু যাকে আর কোনো বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করা যায় না। কারণ যত বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করা হবে তা সীমিত হয়ে পড়বে। আর কোন সীমিত কারণ থেকে জগতের উৎপত্তি হতে পারে না।

সুতরাং জগতের আদি কারণ সত্ত্বা (Being) অবিভাজ্য ও ধারাবাহিক। একাত্ববাদী দার্শনিক পারমেনাইডিস বলেছেন সত্ত্বাকে আমরা দুটি দৃষ্টিকোন থেকে উপলব্দি করতে করতে পারি এক, সংবেদন (Sensation) এবং দুই বুদ্ধি (Reason)। Being বা সত্ত্বাকে সংবেদনের দৃষ্টিকোন থেকে যদি দেখি তাহলে সত্ত্বা (Being) অনেক। আর যদি বুদ্ধি দিয়ে সত্ত্বা (Being) কে উপলব্ধি করতে চাই তাহলে তা হবে এক ও অদ্বিতীয়।

‘সত্ত্বা’ থেকে জগতের উৎপত্তি হলেও অর্থাৎ ‘সত্ত্বা’ উপাদান কারণ হলেও, এর থেকে কোন কিছু নিজে নিজে উৎপত্তি হয় না। সত্ত্বা থেকে কোন কিছুর উৎপত্তি হতে গেলে দুটি নীতি কার্যকারী হওয়া প্রয়োজন, তা না হলে সত্ত্বা থেকে কোন কিছুর উৎপত্তি হতে পারে না। এই দুটি নীতি হল এক উষ্ণতার নীতি (The Principle of hot ness) এবং দুই শীতলতার নীতি (The Principle of cold ness)।

উষ্ণতা হল অগ্নির বৈশিষ্ট্য, শীতলতা হল পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য। সত্ত্বার উপর উষ্ণতার নীতি কার্যকারী হলে তার থেকে সব কিছুর উৎপত্তি হয় এবং শীতলতার নীতি কার্যকারী হলে বিনাশ ঘটে। তাই বলা যায় যত বেশী উষ্ণতা তত বেশী সৃষ্টি এবং যত বেশী শীতলতা তত বেশী ধ্বংস। তিনি উষ্ণতাকে সংঘবদ্ধ করেছেন সত্ত্বার সাথে এবং শীতলতাকে যুক্ত করেছেন অসত্ত্বার সাথে।

পিথাগোরীয় সম্প্রদায় 

পিথাগোরাসের লিখিত কোন গ্রন্থ পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে যেসব বক্তব্য উত্থাপন করতেন সেই মত পরবর্তীকালে গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। পিথাগোরীয় সম্প্রদায়ের মতে, গাণিতিক তত্ত্ব বা সংখ্যা হল সকল কিছুর উৎপত্তির মূল। এটি কোন জড়দ্রব্য নয়, এটি অজড় ও বিমূর্ত। এটিই হল তত্ত্বের মূল প্রকৃতি। পিথাগোরীয় সম্প্রদায় সংখ্যাকে গাণিতিক তত্ত্ব বলে বিবেচনা করেছেন এবং বলেছেন গাণিতিক তত্ত্বের সাহায্যে সকল কিছু ব্যাখায় করা যায়।

পিথাগোরীয় সম্প্রদায়ের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে জানতে পারা যায় যে সংগীতের ওপর তাদের অসীম অনুরাগ ছিল। সঙ্গীতের সুরের মোর্ছনা ও বিভিন্ন সুরের নয় ও তালের পার্থক্য কেবলমাত্র সংখ্যার সাহায্যেই প্রকাশযোগ্য। পিথাগোরীয়দের এরূপ মতবাদ আবারও প্রমাণ করে যে, সংখ্যাই হল গাণিতিক উপাদান হিসেবে প্রথম ও প্রধান তত্ত্ব। জ্যামিতিক সমস্ত বিষয়কে এই সংখ্যার সাহায্যেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। পিথাগোরীয়রা সঙ্গীত ও গাণিতিক সত্ত্বার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ করেছেন ‘Harmoni cmean’ ও ‘Harmonic Progation’ ইত্যাদি পরিভাষার মাধ্যমে।

পিথাগোরীয়দের মতে, জগতের প্রত্যেক সসীম বস্তুই এক, এই অর্থে যে জাগতিক সকল বস্তুর মধ্যে ঐক্য আছে। কিন্তু সকল বস্তুই যদি এক হয় তাহলে তারা অভিন্ন হয়ে পড়ে। তাই বস্তু কেবলমাত্র এক নয়, তার ভিন্নও বটে এই অর্থে তারা দুই। কাজেই ‘এক’ শব্দ জগতের মধ্যে ঐক্যকে বোঝায় এবং ‘দুই’ শব্দ ভিন্নতাকে বোঝায়। সুতরাং জগতে যেমন ঐক্য আছে, তেমনি অভিন্নতাও আছে।

একাত্ববাদের সমালোচনা 

অ্যারিস্টটল সমগ্র একাত্ববাদের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত সমালোচনা গুলি করেছেন-

প্রথমত, তিনি মনে করেন একাত্ববাদী দার্শনিকেরা যারা জাগতিক বস্তুসমূহের উৎপত্তিতে কোন জড়বস্তুকে কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন তারা অনেকাংশই ভ্রান্ত, জাগতিক বস্তুসমূহের উৎপত্তিতে তারা কেবল জড়বস্তুকেই দায়ি করেছেন, অথচ অজড় বস্তুও জগতে আছে।

দ্বিতীয়ত, একাত্ববাদীদের কেউও নিমিত্ত করনের উল্লেখ করেননি বলে মনে হয়যে, তারা নিমিত্ত কারনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। একমাত্র ব্যতিক্রম পারমেনাইভিস। তিনি স্পষ্টভাবে না হলেও দুটি ভিন্ন ভিন্ন নীতি উল্লেখ করে নিমিত্ত কারনের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তৃতীয়ত, একাত্ববাদী দার্শনিকদের মধ্যে কেউই বস্তুটি কী বা বস্তুর সারধর্ম কী তা নিয়ে আলোচনা করেননি, তেমনি বস্তুসমূহের উদ্দেশ্য কী তার সম্বন্ধেও একটি কথা বলেননি। তাই মনে হয় যে, একাত্ববাদী দার্শনিকেরা আকারগত কারণ ও উদ্দেশ্য কারণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না।

চতুর্থত, একাত্ববাদী দার্শনিকদের মধ্যে কেউই ক্ষিতি বা মাটির উপর গুরুত্ব দেননি, কেননা তারা কেউই ক্ষিতিকে মৌলদ্রব্য বলে বিবেচনা করেননি। যদিও তাদের মধ্যে কেউ জলকে, কেউ বায়ুকে, আবার কেউ অগ্নিকে আদিকারণ বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

যথা – গাণিতিক সত্ত্বাকে সমস্ত কিছুর মৌলিক নীতি বলে বনর্না করেছেন। অ্যারিস্টটলের মতে এটি একটি অদ্ভূত মত। কেননা, গাণিতিক সত্ত্বা গুলি নিশ্চল জগতের অধিবাসী। সুতরাং নিশ্চল বিষয় থেকে চলমান জাগতিক বিষয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যয়ে।

পঞ্চমত, সবশেষ বলা যায় যে, পিথাগোরাস সম্প্রদায় সম্ভবত উপাদান কারণ এবং আকারগত কারনের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয়নি, কেননা তারা সংখ্যাকেই বস্তুর উপাদান কারণ এবং সংখ্যাকেই বস্তুর সারধর্ম বলে বিবেচনা করেছেন। তাই অ্যারিস্টটল মনে করেন যে, সম্ভবত তারা উপাদান ও আকারগত কারনের পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।

এখন প্রশ্ন হল অ্যারিস্টটল কি সমস্ত যথা সার্বিক ভাবেই বলেছেন? এর উত্তরে বলা যায় একাত্ববাদী দার্শনিকেরা Efficient Cause সম্বন্ধে কিছু না বললেও অ্যারিস্টটল একাত্ববাদীদের বিরুদ্ধে যে সমালোচনা করেছেন তা অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা। যদিও বলা যায় অ্যারিস্টটলের পূর্ববর্তী দার্শনিকেরা উৎপত্তি ও বিনাশের জন্য পরিবর্তন যে অত্যন্ত জরুরী তা তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

উপসংহার

সুতরাং বলা যায় থেলস প্রমুখরা যে যুগের দার্শনিক ছিলেন অ্যারিস্টটল যদি সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে সমালোচনা করত তাহলে অ্যারিস্টটলের সমালোচনা সম্পূর্নরূপে গ্রহণযোগ্য হত। যেহেতু অ্যারিস্টটলের সমালোচনা অনেক পরে তাই একাত্ববাদীদের বিরুদ্ধে অ্যারিস্টটলের সমালোচনা সর্বতভাবে গ্রহণযোগ্য হত।


FAQ

প্রাক-সক্রেটিস দর্শন কী?

সক্রেটিসের পূর্ববর্তী গ্রিক দার্শনিকদের চিন্তাধারাকে প্রাক-সক্রেটিস দর্শন বলা হয়।এই দার্শনিকদের অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে বিশ্বজগতের পেছনে একটি মৌলিক নীতি বা উপাদান (Arche) রয়েছে।

থেলিসের মতে জগতের মূল উপাদান কী?

থেলিসের মতে জগতের মূল উপাদান হলো জল (Water)।

ডেমোক্রিটাসের প্রধান অবদান কী?

তিনি পরমাণুবাদ (Atomism) তত্ত্বের প্রবর্তক।

প্রাক-সক্রেটিস দর্শনের গুরুত্ব কী?

এটি যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং পাশ্চাত্য দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করেছে। তাছাড়া আজকের বিজ্ঞান ও দর্শনের অনেক মৌলিক ধারণার ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই প্রাক-সক্রেটিস দার্শনিকদের চিন্তাধারার উপর।


📚 আরো পড়ুনঃ

লকের প্রতিরূপী বস্তুবাদ সম্পর্কে আলোচনা করো

লক্‌ মুখ্য গুণ ও গৌণ গুণের মধ্যে পার্থক্য করেন