বি.এ. সমাজ ও রাষ্ট্র দর্শনের –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – সংঘ কী। সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য লেখ এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

সংঘ কী? সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য লেখ
এক বা একাধিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যখন কিছু সংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে কোনো দল গঠন করেন তখন তাকে সংঘ বা সমিতি বলে। ম্যকাইভার ও পেজ এর মতে-‘সাধারণ স্বার্থ অনুসরণের জন্য সামাজিক ব্যক্তির যে সংগঠন তা হল সংঘ।’
Gisbert একইভাবে তাঁর ‘Fundamentals of sociology’ গ্রন্থে বলেছেন- ‘An Association is a group of people united for a specific purpose or a limited number of purposes’ অর্থাৎ ‘সংঘ হল এমন এক জনগোষ্ঠী যেখানে একটি বা কয়েকটি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সদস্যরা মিলিত হন।’
শ্রমিক সংগঠন, মানসিক সমিতি, শিক্ষক সমিতি, সাহিত্য সমিতি প্রভৃতি হল সমাজে প্রচলিত কিছু সংঘের উদাহরণ। সংঘ বা সমিতি এক ধরনের জনসমষ্টি কিন্তু তাই বলে যে কোনো জনসমষ্টিকেই সংঘ বা সমিতি বলা যায় না। সংঘ বা সমিতির দুটি বৈশিষ্ট্য থাকা একান্ত প্রয়োজন-
প্রথমত
জনসমষ্টির ব্যক্তিদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পারস্পারিক সম্বন্ধ থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত
সংঘের সাধারণ লক্ষ্য সম্পর্কে প্রত্যেক সদস্যকে সচেতন হওয়া দরকার অর্থাৎ সংঘ বা সমিতির সদস্যরা কোনো সাধারণ স্বার্থ সাধনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়।
সংঘ বা সমিতিতে অংশগ্রহণ করে মানুষ তিনভাবে তার কামনা বাসনা চরিতার্থ করতে পারে যথা-
স্বনির্ভরভাবে অর্থাৎ অপরের ওপর নির্ভর না করে।
অপরের সঙ্গে বিরোধিতা করে মানুষ নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারে।
মানুষ সংঘবদ্ধভাবে সহযোগীতার ভিত্তিতে একে অপরের জন্য কর্ম করতে পারে।
এই তৃতীয় প্রকার মনোভাব থেকে সৃষ্টি হয় সংঘ বা সমিতি।
সহজ কথায় বলা যায়, সমাজের কিছু মানুষ যখন সমষ্টিবদ্ধ হয় তখনই সংঘ বা সমিতির উদ্ভব হয়না। এ প্রসঙ্গে ম্যকাইভার বলেছেন – পথের ধারে দাঁড়িয়ে যে জনতা আগুন লাগা দেখছে তারা জনসমষ্টি হলেও, তারা সংঘ বা সমিতি নয়। এখানে একই স্বার্থে এক জায়গায় সমবেত হয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সামাজিক সম্পর্ক হয়নি, তারা শুধুই জনসমষ্টি মাত্র।
কিন্তু যদি পথের জনতা মনে করেন যে, সমবেতভাবে সকলের সহযোগিতা দ্বারা আগুন নেভাবে তখন সেই জনসমষ্টি সংঘে পরিণত হবে। যখন মানুষ আগুন লাগা দেখছিল তখন তাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ছিলনা কিন্তু যখনই তারা আগুন নেভানোর কাজে নিযুক্ত হল তখনই তাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠল। সুতরাং জনগণের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক ও সচেতনতা থেকে সংঘ সমিতির সৃষ্টি।
সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য
সংঘ বা অনুষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।
মানবজীবনের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠন অপরিহার্য অর্থাৎ সংঘ একপ্রকার জনগোষ্ঠী। কিন্তু অনুষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান ওই গোষ্ঠীকে সচল রাখে। এ প্রসঙ্গে গিসবার্ট বলেছেন-“Association are things Institutions are modes and ways.” অর্থাৎ ‘সংঘ হল বস্তু এবং অনুষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান হল বিভিন্ন পদ্ধতি।’
সংঘ হল মানবজীবনের উপাদান। আর অনুষ্ঠান সেই উপাদানের আকার দেয়।
সংঘ সমাজের স্থিতিশীল বিষয় কিন্তু অনুষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান সংঘের গতিশীল দিক।
সংঘ মানেই এক বা একাধিক উদ্দেশ্য থাকে, আর অনুষ্ঠান হল সেই উদ্দেশ্য লাভের উপায়।
মানুষ সংঘের সদস্য হয় আর অনুষ্ঠান পালন করে।
সংঘতেই আমাদের জন্ম হয়, সেখানেই আমরা প্রতিপালিত হই। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা কাজ করি।
Thanks For Reading:
সংঘ কী? সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য লেখ
More Post:
চার্বাক নীতিবিদ্যা | চার্বাক সুখবাদ
জড়বাদ ও আধ্যাত্মবাদের মূল পার্থক্য
চার্বাক মতে আত্মা কী | চার্বাক দর্শন
চার্বাক মতে শব্দ প্রমাণ নয় কেন
চার্বাক মতে অনুমান কেন প্রমান নয়
চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ একমাত্র প্রমাণ
চার্বাক দর্শনের সম্প্রদায়গুলি লেখ
সম্প্রদায়ের ভিত্তি গুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর