একটি নদীর আত্মকথা বাংলা রচনা পর্বে অজকের আলোচনার বিষয় হল – একটি নদীর আত্মকথা প্রবন্ধ রচনা বা একটি নদীর আত্মকথা রচনা ছাত্র ছাত্রীদের কাছে খুব সহজ ভাবে এই রচনাটি তুলে ধরা হল।

একটি নদীর আত্মকথা
“এতো বড়ো আকাশের নীচে ,
যে তোমাকে সর্বস্য মেনেছে।
মমতা , মায়ার প্রতিনিধি,
চিরকাল থাকো তুমি নদী। ”
ভূমিকা
আমি সেই নদী যাকে ভারতবাসী দেবী জ্ঞানে পূজা করে। আমার প্রবাহিত জলকে সকলে পবিত্র বলে মনে করে। যুগ যুগ ধরে বহু সাধক, বহু কবি আমাকে নিয়ে কত স্তুতি ও কবিতা রচনা করেছে। আমি হলাম গঙ্গা । আমিই আবার দেবলোকে মন্দাকিনী, আমিই আকাশ পাতালে ভগবতী।
আমার গতিপথ
উত্তর ভারতকে অতিক্রম করে ২৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে গৌরবঙ্গে প্রবেশ করে আমি দুটি শাখায় বিভক্তি হয়ে সাগরে মিলিত হয়েছি। ভারতবর্ষের মধ্যে আমি এতো দীর্ঘপথ অতিক্রম করেছি। ভারতের অন্যান্য নদীর তুলনায় আমাকে নিয়ে মানুষের উৎসাহ সবথেকে বেশি।
আমার পৌরানিক পরিচয়
স্বর্গ থেকে মর্ত ভূমিতে আমার অবতারণ প্রসঙ্গে পৌরানিক কাহিনী রয়েছে। সগর রাজার সন্তানদের উদ্ধার করার জন্য ভগীরথের অনুরোধে আমি স্বর্গ থেকে মর্তে অবতারণ করি।
আমার প্রচন্ড জলস্রোতে মর্তভূমি যাতে রক্ষা পায় তার জন্য স্বয়ং মহাদেব তার মস্তিষ্কে আমায় ধারণ করেন। ভগীরথ আমাকে মর্তভূমিতে আমার গতিপথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। তাই আমার অপর নাম ভাগীরথী।
আবার আমার গতিপথে জহ্নিমুনির আশ্রম থাকায় জলস্রোতে তা ভেসে যায়। তখন জহ্নিমুনি আমার সমস্ত জলধারা পান করে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জানু দিয়ে তিনি আমাকে আবার বাইরে নির্গত করেন। তাই আমার অপর নাম জহ্নবী।
আমার গর্ব
আমার দীর্ঘ মাত্রা পথে আমাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকছে কত মানুষ। তাদের কেউ মাছ ধরে, কেউ খেয়া পারাপার করে। কেউ বা আবার কৃষিকাজ করে। আমার তীরে গড়ে উঠেছে অনেক স্নানের ঘাট। তীরে তীরে দেখা যায় অনেক গাছপালা অরণ্য ও তীর্থস্থান। আমার ঘাটে দলে দলে পুন্যথীরা ছুটে আসে পূর্ন অর্জনের জন্য। আমাকে কেন্দ্র করে কত সাহিত্যি সৃষ্টি হয়েছে।
আমার দুঃখ
আধুনিক কালে শিল্প কারখানার নোংরা জল, শহরাঞ্চলের নোংরা আবর্জনা আমার জলে এসে মিশছে তাতে আমার জল দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া পলি পড়ে আমার স্বচ্ছন্দ জলস্রোত আজ অনেকটাই গতিহীন। কোনো কোনো জায়গায় আমার প্রবাহ ধারা অতি ক্ষীন হয়ে গেছে। আমার দুঃখ হল এই যে পবিত্রতাকে এই ভাবে অপবিত্র করা কি ঠিক ?
উপসংহার
মৃদুমন্দ বাতাসকে বক্ষে নিয়ে , দু – পাশের জনজীবনের চিত্রকে সঙ্গে নিয়ে আজও আমি বয়ে চলেছি অনন্ত চলা আমার। আজও আমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্তোত্র পাঠ , মঙ্গল শঙ্খ প্রভৃতি ধ্বনীত হচ্ছে । আজও আমি মানুষের মনের মনি কোঠায় স্থান করে আছি। কবি শঙ্করাচার্য -এর লেখনীতে ফুটে উডেছে পরম পার্থনা-
“দেবি! সুরেশ্বরি! ভগবতি গঙ্গে ত্রিভুবনতারিণি তরলতরংঙ্গে |
শংকরমৌলিবিহারিণি বিমলে মম মতিরাস্তাং তব পদকমলে ||”
Thanks For Reading: একটি নদীর আত্মকথা রচনা / একটি নদীর আত্মকথা / একটি নদীর আত্মকথা প্রবন্ধ রচনা
More Post:
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা
বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ রচনা
সংবাদপত্র পাঠের প্রয়োজনীয়তা রচনা
একটি গাছ একটি প্রাণ | গাছ আমাদের বন্ধু রচনা