বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – বিবেকানন্দের মতে মানুষের যথার্থ স্বরূপ লেখ এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

বিবেকানন্দের মতে মানুষের যথার্থ স্বরূপ লেখ।
স্বামী বিবেকানন্দ স্বকীয় প্রথায় মানব প্রকৃতি বা সত্তার অন্বেষণ করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনে মানব প্রকৃতি দুটি সূক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে আলোচিত হয়েছে। এই দুটি দিক হল – ১. দৈহিক স্বরূপ ও ২. অধ্যাত্মিক স্বরূপ। বিবেকানন্দ বলেছেন দৈহিক ও অধ্যাত্মিক – এই দুই প্রকৃতির সূক্ষ সমন্বয়ে মানুষ গঠিত হয়। অর্থাৎ মানুষ কেবল জড় উপাদান সমষ্টি নয় , তাতে চৈতন্যময় অধ্যাত্মিক সত্তা রয়েছে। অর্থাৎ জড় দেহে চৈতন্যময় অধ্যাত্মিক সত্তা সন্নিবিষ্ট হলে তবেই মানব সত্তা গড়ে ওঠে। এই দুই দৈহিক প্রকৃতির মধ্যে অধ্যাত্মিক প্রকৃতিই হল প্রকৃত মানব সত্ত্বা।
তিনি বলেছেন প্রকৃত মানুষ হল আধ্যাত্মিক শক্তির এক কেন্দ্রিভূত অবস্থা। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক শক্তিই হল মানুষের মূল পরিচয়। এই আধ্যাত্মিক শক্তিকে দুভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। নঞর্থক ভাবে ও সদর্থক ভাবে। নঞর্থক ভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি হল – যা জাগতিক ও সাধারণভাবে আমরা যে রূপে দেখি তা তার প্রকৃত স্বরূপ নয়। অন্যদিকে সদর্থক ভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি হল যা জাগতিক সীমাবদ্ধ তাকে অতিক্রম করে এক অসীম ও অনন্ত সত্ত্বার দিকে ধাবিত হয়। এই আধ্যাত্মিক প্রকৃতিকে উপলব্ধি করাই হল মানুষ জীবনে চরম লক্ষ্য।
বিবেকানন্দ প্রকৃত মানব স্বরূপকে আত্মা বলেছেন। আত্মা চিরন্তন, জন্ম – মৃত্যু রাহিত, আদি -অন্তহীন সর্বশক্তিমান এক অনন্ত সত্তা। তাই প্রকৃত সত্তা হিসাবে মানুষ চিরন্তন, জড় দেহের উৎপত্তি – বিনাশ হলেও আত্মা অপরিবর্তনীয় রূপে বিদ্যমান থাকে। প্রকৃত মানুষের কখনও বিনাশ সাধন হয় না। প্রতিদিন পোশাক বদলের মতো আত্ম দেহ বদল করে মাত্র। মানুষ তাঁর প্রকৃত স্বরূপে অপরিবর্তনীয় রূপে বিদ্যমান থেকে যায়।
Thanks For Reading
সার্বভৌম ধর্মের আদর্শ কী বিবেকানন্দের মতে / সার্বভৌম ধর্মের আদর্শ বলতে বিবেকানন্দ কী বুঝিয়েছেন
More Post:
সার্বভৌম ধর্মের আদর্শ কী বিবেকানন্দের মতে
মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে বিবেকানন্দ