অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে

বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে। অদ্বৈত শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে

 

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে। অদ্বৈত শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত হলেন শংকরা চার্চা

               অদ্বৈত শব্দটির অর্থ হল এক বা যার দ্বিতীয় কিছু হয় না।  স্বামী বিবেকানন্দ বেদান্তের অতল গহ্বরে প্রবেশ করে বেদান্তের অদ্বৈত ভাবকে উপলদ্ধি করেছেন। যে দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল – ‘একমেবাদ্ধিতীয়ম‘- সেই দর্শনই হল অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন। দ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত এবং অদ্বৈত – এই তিনটি একই অনুভূতির ভিন্ন প্রকাশ। কারণ স্বামীজী মনে করতেন , ক্ষুদ্র দেহে আমরা যে জাগতিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক অনুশীলন করি তা চূরান্ত পর্যায়ে অসীম সত্তার সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।  অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন থেকে বিবেকানন্দ যে বানীটি আবিষ্কার করেছিলেন তাহল – ‘সোহয়ম অর্থাৎ আমি সেই ‘ – আমি পরম ব্রহ্ম। বেদান্ত বলে মানুষ আসলে দেহ বা ইন্দ্রিয় নয়, মানুষ হল পরম ব্রহ্ম। সংকরাচার্চ বলেছেন – ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎমিথ্যা, জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন এই অর্থ অনুযায়ী এই বিশ্বে একটিমাত্র সত্তা আছে, আর তাহলে ব্রহ্ম। জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোন প্রভেদ নেই। ব্যবহারিক জীবনে আমরা সকলের মধ্যে ভেদ স্বীকার করলেও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সকলেই এক, অর্থাৎ আত্মা হিসাবে সকলেই এক ব্রহ্মই সমস্ত কিছু হয়েছে, আবার ধ্বংশ প্রাপ্ত হলে ব্রহ্মই হয়ে যায়। 

                        সুতরাং অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনে অদ্বৈত শব্দটির তাৎপর্য হল এই যে , এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে ব্রহ্মের প্রকাশ রূপে আভিন্ন সত্তা বলে গণ্য করে সকল ভেদাভেদ রহিত একটি মাত্র সত্ত্বায় পরিনত করা হয়েছে । সকল মানুষ যে আধ্যাত্মিক জগতে অখন্ড সত্ত্বার অংশ এবং এক – এই  অদ্বৈতভাবে ব্যবহারিক জীবনে প্রতিষ্ঠা হলে প্রত্যেক মানুষ অন্যকে নিজের সাথে একথা অনুভব করবে ও শ্রদ্ধায় চোখ দেখবে।


Thanks For Reading

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে। অদ্বৈত শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 

More Post:

অদ্বৈতজ্ঞান উপলব্ধি করা কী সম্ভব

রাজ যোগের আলচ্য বিষয় কী বিবেকানন্দের মতে