নিরপেক্ষ ন্যায় একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার

একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টারের দর্শন নিরপেক্ষ ন্যায়ের -এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।

নিরপেক্ষ ন্যায় 
নিরপেক্ষ ন্যায়

নিরপেক্ষ ন্যায় 

1. মুর্তি (Mood) কাকে বলে?  

          নিরপেক্ষ ন্যায়ের অন্তর্গত বচনগুলির গুণ ও পরিমাণ অনুসারে ন্যায়ের যে বিভিন্ন আকার গঠিত হয় তাকে ন্যায়ের মুর্তি বলে। ন্যায়ের চারটি সংস্থানে মোট 19 টি শুদ্ধ বা বৈধ মুর্তি পাওয়া যায়।

2. নিরপেক্ষ ন্যায়ের সাধারণ নিয়মাবলী 

    গঠন সংক্রান্ত নিয়ম 

1. প্রত্যেক বৈধ ন্যায় অনুমানে 3 টি মাত্র পদ থাকবে তার বেশিও নয় বা কমও নয়।

2. প্রত্যেক ন্যায় অনুমানে কেবলমাত্র 3 টি বচন থাকবে।

বৈধতা সম্পর্কিত নিয়ম 

i. হেতুপদকে দুটি আশ্রয় বাক্যের মধ্যে অবশ্যই একবার ব্যাপ্য হতে হবে।

ii. যে পদ আশ্রয় বাক্যে ব্যাপ্য হয়নি, সে পদ কেনো মতেই সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না

iii.  দুটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হবে না।

iv. একটি আশ্রয় বাক্য নঞ্চর্থক হলে সিদ্ধান্তটি অবশ্যই নঞর্থক হবে।

v. যদি দুটি আশ্রয় বাক্যই সদর্থক হয়, তাহলে সিদ্ধান্তটি অবশ্যই সদর্থক হবে।

 সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত নিয়ম 

i. দুটি বিশেষ আশ্রয় বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।

ii. একটি আশ্রয় বাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্তটি অবশ্যই বিশেষ হবে।

iii.  প্রধান আশ্রয় বাক্য বিশেষ এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে না।

          উপরিউক্ত নিয়মগুলি যথাযথভাবে পালন না করলে এক বা একাধিক দোষ বা অনুপপত্তি দেখা দেয়।

3. আদর্শ আকারের ন্যায়ের নিয়মগুলি ব্যাখ্যা করো।

          আদর্শ আকারে নিরপেক্ষ ন্যায়ের বৈধতার কতক গুলি নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলি মানা হলে আদর্শ আকারে ন্যায়কে বৈধ বলি। আর যদি কোনো নিয়ম লঙ্খন করা হয় তাহলেই যুক্তিটি অবৈধ হয়। প্রচলিত যুক্তি বিজ্ঞানে নিরপেক্ষ ন্যায়ের বৈধতা যে দশটি নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলি আলোচনা করা যাক।

প্রথম নিয়ম 

একটি ন্যায়ে কেবল মাত্র তিনটি পদ থাকবে, এবং প্রতিটি পদ একই অর্থে দুবার ব্যবহৃত হয়। যেমন –

E –  কোনো মানুষ নয় পূর্ণ

A –  সকল দার্শনিক হয় মানুষ

অথএব,   E-   কোনো দার্শনিক নয় পূর্ণ

          এখানে ‘মানুষ’, ‘পূর্ণ’, ‘দার্শনিক’ এই তিনটি পদ আছে এবং তিনটি পদ একই অর্থে দুবার করে ব্যবহৃত হয়েছে, এখানে মানুষ পদটি হল হেতু পদ, পূর্ণ কথাটি হল সাধ্য পদ এবং দার্শনিক কথাটি হল পক্ষপদ।

          যদি কোনো ন্যায়ে তিনটির বেশি পদ থাকে তাহলে অনুমানটিতে ‘চারিপদ ঘটিত দোষ’ হয়। আর তিনটি কম পদ থাকলে মোট ন্যায় অনুমান হয়ে অমাধ্যম অনুমান হয়।

দ্বিতীয় নিয়ম 

একটি নিরপেক্ষ ন্যায় কেবলমাত্র তিনটি বচন দ্বারা গঠিত হয়। তিনটি বচনের মধ্যে একটি হল প্রধান আশ্রয় বাক্য এবং অপর দুটি হল যথাক্রমে অপ্রধান আশ্রয় বাক্য ও সিধান্ত বাক্য।

তৃতীয় নিয়ম 

একটি বৈধ নিরপেক্ষ ন্যায়ে হেতুপদ অন্তর্ভুক্ত একটি আশ্রয় বাক্য অবশ্যই ব্যাপ্য হবে। হেতু  পদ যদি কোনো আশ্রয় বাক্যে ব্যপ্য না হয় তাহলে যুক্তিটিতে ‘অব্যপ্য হেতু দোষ’ ঘটে। কোনো নিরপেক্ষ ন্যায়ে সিদ্ধান্ত বাক্যে পক্ষপদ ও সাধ্য পদের মধ্যে যে সম্পর্কের কথা বলা হয় তা সম্ভব হয় হেতু পদের দ্বারা এখন যদি হেতুপদ কোনো আশ্রয় বাক্যে ব্যপ্য না হয় তাহলে তার পক্ষে পক্ষ পদ ও সাধ্য পদের মধ্যে সম্মন্ধ স্থাপন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং পক্ষপদ ও সাধ্য পদের মধ্যে অন্তত কোনো একটিকে হেতুপদ নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত হতে হবে। উদাহরণ –

              A – সকল মানুষ হয় সৎব্যক্তি

              A –  সকল কবি হয় সৎব্যক্তি

অথএব,  A –  সকল কবি হয় মানুষ

চতুর্থ নিয়ম 

যে পদ আশ্রয় ব্যপ্য হয় সে পদ সিদ্ধান্তে ব্যপ্য হতে পারে না। বৈধ নিরপেক্ষ ন্যায়ে সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্য থেকে অনিবার্য ভাবে নিঃসৃত হয়। তাই সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্যের থেকে কখন ব্যপক হয় না। সাধ্যপদ যদি আশ্রয় বাক্যে ব্যপক না হয়ে সিদ্ধান্তে ব্যপক হয় তাহলে ‘অবৈধ সাধ্য দোষ ’ দেখা দেয়। আবার পক্ষ পদ আশ্রয় বাক্যে ব্যপক না হয়ে যদি সিদ্ধান্তে ব্যপক হয় তাহলে ‘অবৈধ পক্ষ দোষ’ দেখা দেয়। উদাহরণ –

A – সকল মানুষ হয় প্রাণী

E – কোনো দেবতা নয় মানুষ

অথএব,      E – কোনো দেবতা নয় প্রাণী

অথএব,  এই অনুমানটিতে, এখানে সাধ্যপদ (P) ‘প্রাণী’ আশ্রয়বাক্যে A বচনে বিধেয় হওয়ার জন্য ব্যাপ্য হয়নি, কিন্তু সিদ্ধান্তে E বচনে বিধেয় হওয়ার জন্য ব্যাপ্য হয়েছে। কিন্তু তা ন্যায়ের নীতি বিরুদ্ধ। কাজেই অনুমানটি ভ্রান্ত।

    E –  কোনো পাখি নয় মানুষ 

A –  সকল পাখি হয় প্রাণী

অথএব,      E –  কোনো প্রাণী নয় মানুষ

অথএব, এই অনুমানটি ‘অবৈধ পক্ষ দোষে’ দুষ্ট। এখানে ‘পক্ষ’ পদ (S) প্রাণী E বচনে উদ্দেশ্য হওয়ার জন্য ব্যাপ্য হয়েছে, কিন্তু অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে A বচনের বিধেয় হওয়ার জন্য ব্যাপ্য হয়নি। সুতরাং অনুমানটি ন্যায় নীতি বিরুদ্ধ এবং সেহেতু ভ্রান্ত।

পঞ্চম নিয়ম 

দুটি নঞর্থক আশ্রয় বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। নঞর্থক আশ্রয় বাক্যের মধ্যে উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না। তাই দুটি নঞর্থক আশ্রয় বাক্যের মধ্যে পক্ষপদ ও সাধ্য পদের মধ্যে কোনো প্রকার সম্মন্ধ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। যে নিরপেক্ষ ন্যায়ে এই পঞ্চম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় সেখানে ‘নঞর্থক যুক্তি বাক্য জনিত দোষ’ ঘটে।  উদাহরণ –

E – কোনো মানুষ নয় সৎব্যক্তি

E – অশোক নয় সৎব্যক্তি

অথএব,  E – অশোক নয় মানুষ

ষষ্ঠ নিয়ম 

দুটি আশ্রয় বাক্যের কোনো একটি নঞর্থক হলে সিদ্ধান্ত অবশ্যই নঞর্থক হবে। দুটি নঞর্থক আশ্রয় বাক্য থেকে যেহেতু কোনো সিদ্ধান্ত টানা যায় না সেহেতু একটি আশ্রয় বাক্য নঞর্থক হলে অপর আশ্রয় বাক্যটি সদর্থক হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ‘নঞর্থক আশ্রয় বাক্য থেকে সদর্থক সিদ্ধান্ত নিঃসরণ জনিত দোষ’ ঘটে।

E – কোনো মানুষ নয় পূর্ণ জীব

A – সকল দেবতা হয় পূর্ণ জীব

অথএব,       E – কোনো দেবতা নয় মানুষ  

সপ্তম নিয়ম 

দুটি আশ্রয় বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্ত অবশ্যই সদর্থক হবে। প্রধান আশ্রয় বাক্য ও অপ্রধান আশ্রয় বাক্য উভয়েই যদি সদর্থক হয় তাহলে উভয় বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্মন্ধ স্থাপিত হয়। এরপরে সিদ্ধান্তে হেতু পদের দ্বারা পক্ষ ও সাধ্যের মধ্যে সম্মন্ধ স্থাপিত হয়। অথয়েব দুটি যুক্তি বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্ত বাক্য সদর্থক হবে।

অষ্ঠম নিয়ম 

দুটি বিশেষ যুক্তি বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। যদি দুটি বিশেষ যুক্তি বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় তাহলে তা অবশ্যই বিশেষ বচন হবে। কারণ ন্যায়ের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্যের থেকে কখনো ব্যাপক হয় না। ইএ নিয়ম লঙ্ঘন করলে ‘দুটি বিশেষ যুক্তি বাক্য জনিত দোষ ঘটে। ’

নবম নিয়ম 

দুটি আশ্রয় বাক্যের কোনো একটি বিশেষ বচন হলে সিদ্ধান্ত অবশ্যই বিশেষ বচন হবে। কোনো ন্যায়ের একটি যুক্তি বাক্য বিশেষ হলে অপর যুক্তি বাক্য সামান্য হয়। কারণ দুটি বিশেষ যুক্তি বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায় না।

দশম নিয়ম 

প্রধান আশ্রয় বাক্য বিশেষ এবং অপ্রধান আশ্রয় বাক্য নঞর্থক হলে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।

4. মিশ্র ন্যায় কাকে বলে? অমিশ্র ন্যায়ের সঙ্গে মিশ্র ন্যায়ের পার্থক্য লেখ।

যে ন্যায়ের বচনগুলি একই জাতীয় হয়না সেই ন্যায়কে বলে মিশ্র ন্যায়।

          অমিশ্র ন্যায় হল এমন ন্যায় যার আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত একই জাতীয় বচনদিয়ে গঠিত হয়। এই ন্যায়ের আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বাক্য হয় নিরপেক্ষ বচন দিয়ে গঠিত অথবা আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত যৌগিক বচন দিয়ে গঠিত। যেমন –

                                                সকল মানুষ হয় মরণশীল ।

                                                রাম হয় মানুষ।

                                              ஃ রাম হয় মরণশীল।

এই যুক্তিটির প্রতিটি আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ বচন বলে যুক্তিটি অমিশ্র ন্যায়। সাপেক্ষ বচন দিয়েও অমিশ্র ন্যায় গঠিত হয় এমন দৃষ্টান্ত হল –

যদি রাম শ্যামের বন্ধু হয় তাহলে শ্যাম করিমের  বন্ধু

যদি শ্যাম করিমের বন্ধু হয় তাহলে করিম যদুর বন্ধু।

ஃ যদি করিম যদুর বন্ধু হয় তাহলে রামও যদুর বন্ধু।

উপরিউক্ত ন্যায়টির আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত প্রাকল্পিক বচন হওয়ায় যুক্তিটি অমিশ্র ন্যায়।

          অপরদিকে, মিশ্র ন্যায় হল এমন একটি ন্যায় যার আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত একই জাতীয় বচন দিয়ে গঠিত হয়। এই ন্যায়ের প্রথম আশ্রয় বাক্য প্রাকল্পিক বা বৈকল্পিক বচন দ্বারা গঠিত হয় এবং দ্বিতীয় ও সিদ্ধান্ত বাক্য নিরপেক্ষ বচন হয়। যেমন –

                                                যদি মেঘ করে তবে বৃষ্টি হবে।

                                                মেঘ করেছে।

                                                ஃ বৃষ্টি হবে।

এটি একটি প্রাকল্পিক মিশ্র ন্যায় । কারণ এর প্রথম আশ্রয় বাক্যটি প্রাকল্পিক  বচন এবং দ্বিতীয় ও সিদ্ধান্ত বাক্যটি নিরপেক্ষ বচন। প্রাকল্পিক ও নিরপেক্ষ বচন দিয়ে গঠিত বলে যুক্তিটি মিশ্রন্যায়। আরো মিশ্র ন্যায়ে প্রথম আশ্রয় বাক্যটি বৈকল্পিক হতে পারে। যেমন –

রাম আসবে অথবা শ্যাম আসবে।

রাম এসেছে।

ஃ শ্যাম আসবে।

5. সংক্ষিপ্ত ন্যায় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

আদর্শ আকারের নিরপেক্ষ ন্যায়ে তিনটি বচন থাকে। কিন্তু এমন অনেক ন্যায় আছে যেখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। সেই অসম্পূর্ণ ভাবে ব্যক্ত নিরপেক্ষ ন্যায়কে সংক্ষিপ্ত ন্যায় বলে। যেমন – “সকল কবি হয় মানুষ” – এই একটি মাত্র আশ্রয় বাক্য থেকে আমরা ন্যায় সম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত করতে পারি ‘কোন কবি নয় পূর্ন। ’ এই যুক্তিটি অসম্পূর্ণ অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ন্যায়।

          সংক্ষিপ্ত ন্যায় বিভিন্ন আকারের হতে পারে। যেমন –

কোন কোন সংক্ষিপ্ত ন্যায়ে শুধুমাত্র আশ্রয় বাক্য উহ্য থাকে।
কোন কোন সংক্ষিপ্ত ন্যায়ে প্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উল্লেখ থাকে, কিন্তু অপ্রধান আশ্রয়বাক্য উহ্য থাকে।

iii.   কোন কোন সংক্ষিপ্ত ন্যায়ে প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয় বাক্য উল্লেখ থাকলেও, সিদ্ধান্তের উল্লেখ থাকে না।

          সংক্ষিপ্ত ন্যায়ের বৈধতা বিচারের ক্ষেত্রে দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রথমত

যুক্তির অনুক্ত অংশটিকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়।

দ্বিতীয়ত

নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়ম সমূহ মান্য হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

          “সাধুরা মানুষ হওয়ার ভুল করে” – এই সংক্ষিপ্ত ন্যায়ের আদর্শ রূপটি হল –

A –   সকল মানুষ হয় এমন যারা ভুল করে।
A –  সকল সাধু হয় মানুষ।  

অথএব,     A –  সকল সাধু হয় এমন যারা ভুল করে।


Thanks For Reading

বচেনর বিরোধিতা একাদশ শ্রেণি

More Post:

ভারতীয় নীতিবিদ্যা একাদশ শ্রেণি প্রশ্ন

যুক্তি বিজ্ঞানের প্রকৃতি অবরোহ এবং আরোহ


 

 

 

 

Leave a Comment