class 11 বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।

বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস
বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

 

বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

1. প্রবাদ ও প্রবচন বলতে কী বোঝো? অন্তত চারটি বাংলা প্রবাদের উদাহরণ দাও?

‘প্রবাদ’ শব্দের অর্থ ‘প্রকৃষ্ট বাদ ‘ ইংরেজিতে Proverbs বলা হয়। Proverbs সম্পর্কে বলা হয়েছে “A well something which is generally true. প্রবাদে সত্যোপলব্ধির প্রকাশ ঘটে আর যাকে সততা শিক্ষা ও পথচালক নির্দেশ। সংক্ষিপ্ত বাক্যের মধ্যে প্রবাদে যাকে বাস্তবনিষ্ঠা, প্রগাঢ় অভিজ্ঞতা, গভীর অনুভূতি অন্যদিকে প্রবচনাকে বিচার করলে দেখা প্রবচন হল ‘প্রকৃষ্ট বচন।’ প্রচলিত কোনো বিশিষ্ট উক্তি প্রবচনের রূপ পায়। প্রবাদে সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েই প্রবচনের উচ্চারণ ঘটে। তবে এদের ক্ষতি তুলনার কিছু দিক আছে। যথা –

1. প্রবাদ হল – ‘প্রকষ্টবাদ’ প্রবচন হল ‘প্রকৃষ্ট বচন।’ সুতরাং প্রবাদে যেখানে সহজ – সরল ও সংক্ষিপ্ত উপাস্থাপনয়ে হৃদয়স্পর্শী আবেদন থাকে প্রবচনে সেখানে থাকে কাটাছোঁড়া কথা বা সদালাপ। তার আবেদন ভাই গম্ভীর নয়।

2. প্রবাদের উপস্থিতি স্বতন্ত্র, ভাবগম্ভীর, প্রকাশে তীব্র অর্থদ্যোতক। কিন্তু প্রবচনের স্বতন্ত্র প্রকাশ নেই। প্রবাদের সমর্থকেই তার স্থিতি। তাই চালক মুখে উচ্চারিত হয় – ‘প্রবাদ প্রবচন’ স্থানতম নিদর্শন। তাছাড়া নানা স্থানে বিভিন্ন পাঁচটি জনপ্রিয় প্রবাদের উদাহরণ হল –

i. অতিচালাকের গলায় দড়ি।

ii. কারও পৌষমাস কারও সর্বানাশ।

iii.  বেল পাকলে কাকের কী?

iv. ভাগের মা গঙ্গায় পায় না।

v. লাগে টাকা দেবে গৌর সেন। 

 

i. বেশি চালাকির পরিমাণ মন্দ হয়।

ii. একই ঘটনা ব্যক্তি বিশেষ সুখের ও দুঃখের হয়।

iii. পরের সুখে ও ঐশ্বর্যে কোনো লাভ নেই।

iv. ভাগাভাগির কাছে কখনো ভালো হয় না।

v. অন্যের অর্থ পাবার আশায় অপরিমিত ব্যয়।

 

2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর কয়টি খন্ড ও কী কী? এই কাব্যটির সাহিত্যমালা বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো? যে কোনো দুই ধরণের ছড়ার উদাহরণ দাও?

সাধারণভাবে ছন্দ, মিল ও দ্রুত লয় যুক্ত আপাতলঘু রচনাকে ছড়া বলা হয়। লৌকিক ছড়ার সাধারণ কতগুলি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন –

(ক)  ছড়া আপাতলঘু অর্থ বিশিষ্ট, ছন্দ – মিল ও দ্রুত তাল লয় যুক্ত হয়।

(খ)   ছড়ার জগৎ মূলত শিশু মনোরঞ্জনের জগৎ।

(গ)   ছড়া সমকালীন হয়েও তাতে একটা চিরকালীন আবেদন থাকে।

(ঘ)   অধিকাংশ লৌকিক ছড়ার রচয়িতার নাম অজ্ঞাত।

(ঙ)   শিশুর কাছে ছড়ার অর্থের চেয়ে ছন্দ ও সংগীতের দোলাই মুখ্য।

(চ)  অদ্ভুত রসই ছড়ার মূল রস।

বাংলা লৌকিক ছড়ার ভান্ডার বৈচিত্র্যপূর্ণ। মধ্যে দুই ধরণের ছড়ার উদাহরণ হল –

ঘুমপাড়ানি ছড়া –

“ছেলে ঘুমালো পড়া ছড়ালো বর্গী এল দেশে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে ?

ধান ফুরুলো পান ফুরুলো খাজনার উপায় কি ? আর কটা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি।”

ছেলেদুলানো ছড়া –

“দোল দোল দুলুনী

রাঙা মাথায় চিরুনি।

বর আসবে এখনি,

নিয়ে যাবে তখনি।।

কেঁদে কেন মর।

আপনি বুঝিয়া দেখো কার ঘর করে।।”

খেলাধুলো বিষয়ক ছড়া –

“ইলাটিং বিলাটিং সইল।

রাজা একটি মেয়ে চাইল।।”

 বৈবাহিক চিন্তামূলক ছড়া –

“যমুনাবতী সরস্বতী কাল যমুনার বিয়ে।

যমুনা যাবে শ্বশুরবাড়ি কাজিতলা দিয়ে।। ”

কন্যাবিদায় বিষয়ক ছড়া –

“আজ দুর্গার অধিবাস কাল দুর্গার বিয়ে।

দুর্গা যাবেন শ্বশুরবাড়ি সংসার কাঁদিয়ে।। ”


Thanks For Reading

বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস

More Post:

বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো গল্পের প্রশ্ন

পুঁইমাচা গল্পের ছোট প্রশ্ন ও শব্দার্থ

নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর | নুন কবিতা


 

 

Leave a Comment