একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর গুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।

নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর
লেখক – জয় গোস্বামী
Marks – 2
1. নুন কবিতায় আমরা কারা ?
কবি জয় গোস্বামী রচিত নুন কবিতায় আমরা বলতে সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ যারা অল্পতেই খুশি থাকে। এদের ভাত কাপড়ের জোগার হলেই আর অন্য কিছুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে না।
2. নুন কবিতায় কবি শেষে কীসের দাবি জানিয়েছেন ?
নুন কবিতায় কবি জয় গোস্বামী একজন খেটেখাওয়া সাধারণ লোকের প্রতিনিধি হিসাবে দাবি জানিয়েছেন যে তাদের শুকনো ভাতে একটু লবণের ব্যবস্থা যাতে হয়। কারণ ঠান্ডা ভাতের সাথে একটু লবণের ব্যবস্থা হলে সাধারণ মানুষের দিনটি সুখের মধ্য দিয়ে ভরে যায়।
Marks – 3
1. “কী হবে দুঃখ করে ” ? – এমন বলার কারণ কী ?
জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের অল্পে খুশি হওয়া জীবনে যে অনেক কিছুরই অভাব আছে, সেই অভাব অনটন নিয়ে দুঃখ না করার কথা বলা হয়েছে।
‘সাধারণ ভাতকাপড় ’ আর ‘অসুখের ধারদেনাতে’ ভরা জীবন সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অতিবাহিত কারে, সেখানে অভাব অবলম্বন। তার মধ্যেও জীবনের এই সত্যটাকে মেনে নিয়ে তারা আনন্দ খুঁজে নেয় তাদের এই অভিরিক্ত পরিশ্রমী জীবন থেকে। তাদের এই খুশি হওয়া মন থেকে নয়, নিতান্ত বাধ্য হয়েই তারা একেই অপরের সঙ্গে ভরপুর আনন্দে মেতে থাকে। এবং তারা জীবনের এই চরম বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বলেছেন – “কী হবে দুঃখ করে” ?
2. ‘সব দিন হয় না বাজার’ – সব দিন বাজার হয় না কেন ?
জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের প্রতিদিনকার দুঃখ কষ্টের সঙ্গে সংগ্রামের জীবনযাত্রার চিত্র এই কবিতায় তুলে ধরেছেন।
নিম্নবিত্ত মানুষের প্রতিদিনকার জীবন অভাব অনটন ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কোনোরকমে কেটে যায়। তাই সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষদের প্রতিদিন বাজার করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারা মাঝে মধ্যেই এই অভাব টাকে মনে না রেখে বাজার করে ফেলে ‘মাত্রা ছাঁড়া’ এই অভাবের সংসারে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নির্বাহের জন্য ক্রমাগত ঋন করে চলা এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নিম্নবিত্ত মানুষের এই বেহিসাবি জীবন দর্শনের প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন উল্লিখিত পভক্তিতে।
3. “মাঝে মাঝে চলেও না দিন” – কেন এমন বলা হয়েছে ?
জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় বলেছেন, যে নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে জীবন মানে কোনোরকমে টিকে থাকা মোটেও বেঁচে থাকা নয়। অভাব – অনটন, ধারদেনা যাদের নিত্যসঙ্গী তারা জানে বিলাপ বা দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। কারণ তাতে তাদের অপ্রাপ্তির তালিকা মুছে গিয়ে প্রাপ্তির তালিকা ভরে উঠবে না কখনোই। তাই তারা অল্পেই সন্তুষ্ট থাকার মন্ত্র শিখে নেয়। এরা নিত্যদিনের খাদ্যবস্ত্র জোগাড় করার জন্য রোজ হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। এভাবেই এদের দিন চলতে থাকে, কখনও আবার চলেও না। কোনো কারণে শরীর অসুস্থ হলে বা কাজ না পেলে ধারদেনা করে, না খেয়ে কষ্ট করেই দিন চালাতে হয়। যখন বেশিদিন শরীর অসুস্থ থাকলে বা কাজ না থাকলে তখনই তাদের ঋণের বোঝা বেড়ে যায়। আর এই ঋণ মেটাতে গিয়ে তারা সবদিক থেকে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। তখনই তাদের দিন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
Thanks For Reading
নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর / নুন কবিতা
More Post:
বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো গল্পের প্রশ্ন
পুঁইমাচা গল্পের ছোট প্রশ্ন ও শব্দার্থ