পরামর্শ কী | পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

বি.এ. ন্যায় দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – পরামর্শ কী। ন্যায় দার্শনিকগন কেন পরামর্শকে অনুমিতির কারণরূপে স্বিকার করেন। অনুমিতির ক্ষেত্রে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো। এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

পরামর্শ কী। ন্যায় দার্শনিকগন কেন পরামর্শকে অনুমিতির কারণরূপে স্বিকার করেন। অনুমিতির ক্ষেত্রে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো। 
পরামর্শ কী। ন্যায় দার্শনিকগন কেন পরামর্শকে অনুমিতির কারণরূপে স্বিকার করেন। 

 

পরামর্শ কী। ন্যায় দার্শনিকগন কেন পরামর্শকে অনুমিতির কারণরূপে স্বিকার করেন। অনুমিতির ক্ষেত্রে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো। 

          অন্নংভট্ট ‘তর্ক সংগ্রহ’ গ্রন্থে অনুমিতির লক্ষনে বলেছেন ‘পরামর্শ জন্যং জ্ঞানম্‌ অনুমিতির’ ওনুমিতিপরামর্শের দ্বারা যে জ্ঞান উৎপন্ন হয় সেই জ্ঞান হল অনুমিতি। প্রশ্ন হল পরামর্শ কী? এর উত্তরে অন্নংভট্ট বলেছেন – ব্যাপ্তি বিশিষ্ট পক্ষ ধর্মতার জ্ঞান হল পরামর্শ। পরামর্শের লক্ষনে দুটি অংশ রয়েছে – (i) ব্যাপ্তিবিশিষ্ট (ii) পক্ষধর্মতা।

ব্যাপ্তি বিশিষ্ট পদটির অর্থ হল ব্যাপ্তিবিষয়ক অর্থাৎ যা ব্যাপ্তির দ্বারা বিশেষিত। আর পক্ষ ধর্মতা বলতে বোঝায় পক্ষে একটি ধর্ম থাকা। তাই ‘তর্ক সংগ্রহে’ পরামর্শের লক্ষন হল যা তাতে পক্ষ ধর্মতার জ্ঞান থাকা। যে হেতুর সঙ্গে সাধ্যের সামানাধিকরন্য আছে সেই হেতুটি পক্ষে আছে এমন জানা হল পক্ষধর্মতা। যেমন–

পর্বতরূপ পক্ষে ধূমরূপ হেতু আছে সেটি জানাই হল পক্ষধর্মতার জ্ঞান।

ওই পর্বতটি ধূমবান। 

যেখানে যেখানে ধূম সেখানে সেখানে বহ্নি।

ওই পর্বতটি বহ্নিমান।

এই উদাহরণটিতে ‘পর্বতটি ধূমবান’ এটি হল পক্ষধর্মতা জ্ঞান, দ্বিতীয়ত বাক্যটি হল ব্যাপ্তি জ্ঞান এবং এই ব্যাপ্তিবিশিষ্ট পক্ষধর্মতা জ্ঞানের পরেই পরামর্শ জ্ঞান হয়।

          অন্নংভট্ট পরামর্শ জন্য জ্ঞানকে অনুমিতি বলেছেন অর্থাৎ তিনি পরামর্শকে অনুমিতির কারণ বলেছেন। কিন্তু মীমাংসক দার্শনিকগন পরামর্শকে অনুমিতির কারণ বলে স্বীকার করেননি। তারা ব্যাপ্তিজ্ঞান ও পক্ষধর্মতা জ্ঞানকে স্বীকার করেছেন। যেমন –

এই পর্বতটিতে বহ্নি আছে।

কারণ, পর্বতটিতে ধূম আছে। অতএব, যেখানে ধূম থাকে সেখানে বহ্নি থাকে।

এই উদাহরণটিতে ‘পর্বতে বহ্নি আছে’ এই জ্ঞানটি ব্যাপ্তি জ্ঞান ও পক্ষধর্মতা জ্ঞান থেকে আসে।

সুতরাং, পরামর্শ নামক তৃতীয় জ্ঞান স্বীকারের প্রয়োজনীয়তা নেই। আর এই কারনেই পরামর্শকে অনুমিতির করণ বলে স্বীকার করা যায় না।

          অন্নংভট্ট এই আপত্তির বিরূদ্ধে তর্ক করেননি। তিনি বলেছেন, কোন কোন স্থানে ‘শব্দ পরামর্শ’ নামক একটি বস্তু আছে এবং কিছু অনুমিতির জন্য যদি একবারও পরামর্শ স্বীকার করতে হয়, তাহলে একটি অনুগত কার্যকারণ নিয়ম স্থাপনের জন্য পরামর্শকে সমস্ত অনুমিতির করণ বলতে হয়।  

           নব্য নৈয়ায়িকেরা বিভিন্ন যুক্তির সাহায্যে অনুমিতির ক্ষেত্রে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। তাদের মতে, পরামর্শ স্বীকার না করলে অনুমিতি উৎপত্তি হতে পারে না। তাদের মতে, ‘পর্বতে বহ্নি আছে’ এমন অনুমিতির ক্ষেত্রে কেবল পক্ষ ধর্মতা জ্ঞান ও ব্যাপ্তি জ্ঞান থাকলেই হবে না, ‘পর্বত বহ্নি ব্যাপ্য ধূমযুক্ত’ এমন জ্ঞান থাকা দরকার। পর্বত ধূমবান এই পক্ষধর্মতা জ্ঞানে ধূম হল বিশেষন এবং পর্বত হল বিশেষ্য। ধূম বহ্নিব্যাপ্য এমন পক্ষধর্মতা জ্ঞান এখানে হয়নি। পর্বত ধূমবান এই পক্ষধর্মতা জ্ঞানে ধূম কেবল বিষয় হয়েছে। বহ্নি ব্যাপ্য ধূম – এই ব্যাপ্তি জ্ঞানে পর্বত বিষয় হয়নি। এইভাবে অনুমিতি উৎপন্ন হতে পারেনা কারণ যে ধূমের দ্বারা পর্বতে বহ্নির অনুমান করা হচ্ছে সেই ধূমটি যে বহ্নি ব্যাপ্তিবিশিষ্ট জ্ঞান এরকম জ্ঞান না হলে অনুমিতি উৎপন্ন হতে পারে না। তাই পরামর্শ নামক তৃতীয় জ্ঞান স্বীকার করতে হবে।


Thanks For Reading

পরামর্শ কী। ন্যায় দার্শনিকগন কেন পরামর্শকে অনুমিতির কারণরূপে স্বিকার করেন। অনুমিতির ক্ষেত্রে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো। 

More Post:

পঞ্চঅবয়াবি ন্যায় কাকে বলে ও এর ৫টি অবয়ব লেখ

ন্যায় মতে ব্যাপ্তি কয়প্রকার ও কী কী

স্বার্থানুমিতি ও পরার্থানুমিতির পার্থক্য লেখো