স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ

বি.এ. জৈন দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – জৈন বলতে কী বোঝো। জৈনদের সপ্তভঙ্গি নয় ব্যাখ্যা করো। স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

জৈন বলতে কী বোঝো। জৈনদের সপ্তভঙ্গি নয় ব্যাখ্যা করো। স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ 
জৈন বলতে কী বোঝো। জৈনদের সপ্তভঙ্গি নয় ব্যাখ্যা করো। স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ

 

জৈন বলতে কী বোঝো। জৈনদের সপ্তভঙ্গি নয় ব্যাখ্যা করো। স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ 

          জৈন মতে স্যাৎ শব্দের অর্থ হল কোনো ভাবে। স্যাদ শব্দটি ব্যাবহার করা হয় কোনোভাবে কোনো কিছু অস্তিত্বশীল এই অর্থে। অর্থাৎ জৈনরা বলেন ঘট অবশ্যই অস্তিত্বশীল এমনভাবে না বলে বলা উচিত কোনোভাবে ঘট অস্তিত্বশীল। স্যাদ্‌ শব্দের সঙ্গে একটি ‘নয়’ প্রমানে প্রমাণিত হয়। একটি আংশিক বা আপেক্ষিক সত্য বলে জালকে বলে প্রমাণ। 

সপ্তভঙ্গি নয়

 জৈন মতে বস্তু সম্পর্কিত প্রতিটি বচন বা নয় শর্তাধীন হবে, কোনো এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো এক বিশেষ অর্থে সত্য জৈনরা বলেন প্রতিটি ‘নয়’ ‘স্যাৎ’ বিশেষণে বিশেষিত হওয়া দরকার। অর্থাৎ প্রত্যেক ন্যায় এর পূর্বে যদি স্যৎ শব্দটি ব্যাবহার করা হয় তবে প্রত্যেক ন্যায়টি আংশিক সত্য হবে। হস্তির পাদস্পর্স করে কোনো অন্ধ ব্যাক্তি যদি হস্তি সম্ভবৎ মনে করে তাহলে একান্তবাদের দোষে দুষ্ট হবে কিন্তু যদি স্যাদ শব্দ যুক্ত করে বলেন, ‘স্যাৎ হস্তি সম্ভবৎ’ তাহলে আর একান্তবাদের দোষ হয় না। তাই লৌকিক জ্ঞান আপেক্ষিক ভাবে সত্য, পূর্ন সত্য নয়।

          জৈনরা তাদের স্যাৎবাদকে সাতটি ‘নয়’ দ্বারা প্রকাশ করবেন এই সাতটি নয় সপ্তভঙ্গি নয় নামে পরিচিত। সাধারণ যুক্তি শাস্ত্র অনুযায়ী বচন দুই প্রকার ইতিবাচক ও নেতিবাচক ইতিবাচক ‘নয়’ দ্বারা কোনো বস্তু সম্পর্কে কোনো বিশেষ ধর্মকে স্বীকার করা হয় এবং নেতিবাচক নয় দ্বারা কোনো এক বস্তু সম্পর্কে কোনো এক বিশেষ ধর্মকে অস্বীকার করা হয়। এই দুই প্রকার বচনের দ্বারাই জৈনরা তাদের সপ্তভঙ্গি ‘নয়’ কে ব্যাখ্যা করেছেন। এই সাতটি নয় হল –

(i) স্যাৎ অস্তি (কোনোভাবে অস্তিত্বশীল)

  আমরা যখন বলি ‘ঘট অস্তিত্বশীল’ তখন আমরা বলি যে ঘটটি বিশেষক্ষেত্রে, বিশেষকালে, বিশেষরূপে, বিশেষদ্রব্যরূপে অস্তিত্বশীল অর্থাৎ হতে পারে কোনো দেশে কোনো কালে ঘট বিদ্যমান। যেমন – কুম্ভকারের ঘট সৃজনে পর ঘট অস্তিত্বশীল।

(ii) স্যাৎ নাস্তি (কোনোভাবে নাস্তিকশীল) 

আমরা যখন বলি ‘ঘট নাস্তিকশীল’ তখন আমরা বলি যে ঘটটি বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষকালে, বিশেষরূপে, বিশেষদ্রব্যরূপে অস্তিত্বশীল হলেও অন্য নাস্তিত্বশীল। অর্থাৎ হতে পারে কোনো দেশে কোনো কালে কোনো অবস্থায় ঘট বিদ্যমান নেই। যেমন কুম্ভকারের ঘট সৃজনের পূর্বাবস্থায় ঘট অবিদ্যমান।

(iii) স্যাৎ অস্তিচ নাস্তিচ (কোনোভাবে অস্তিত্বশীল ও কোনোভাবে নাস্তিত্বশীল) 

হতে পারে কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনো অবস্থায় ঘট বিদ্যমান এবং অন্য কোনো দেশে অন্য কোনো কালে অন্য কোনো অবস্থায় ও পরবর্তী অবস্থাকে পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করলে ঘট অস্তিত্বশীল ও নাস্তিকশীল হয়।

(iv) স্যাৎ অবক্তব্যম্‌ (কোনোভাবে অবর্ণনিয়)

  জৈনরা বলেন, হতে পারে কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনো অবস্থায়, ঘট অবর্ণনীয় যেমন ঘট সৃজনের পূর্ববতী ও পরপর্তী অবস্থাকে সংযুক্ত ভাবে বিশ্লেষণ কারনে ঘট অবর্ণ্নীয়।

(v) স্যাৎ অস্তিচ অবক্তব্যম (কোনো ভাবে অস্তিত্বশীল এবং অবর্ণ্নীয়)

  জৈনরা বলেন, হতে পারে কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনো অবস্থায়,ঘটের বিদ্যমানতা অবর্ণনীয় যেমন ঘট সৃজনের পরবর্তী অবস্থায় ঘট অস্তিত্বশীল এবং ঘট সৃজনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থাকে সংযুক্তভাবে বিশ্লেষণ করলে ঘট অবর্ণ্নীয়।

(vi) স্যাৎ নাস্তিচ অবক্তব্যম (কোনোভাবে নাস্তিত্বশীল ও অবর্ণ্নীয়)

 জৈনরা বলেন, হতে পারে কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনো অবস্থায় ঘটের অবিদ্যমানতা অবর্ণ্নীয় যেমন ঘট সৃজনের পূর্ববর্তী অবস্থায় ঘট অবিদ্যমান এবং ঘট সৃজনের পূর্ববর্তী পরবর্তী অবস্থাকে সংযুক্তভাবে বিশ্লেষণ করলে ঘট অবর্ণ্নীয়।

(vii) স্যাৎ অস্তিচ নাস্তিচ অবক্তব্যম (কোনোভাবে অস্তিত্বশীল ও কোনোভাবে নাস্তিত্বশীল এবং কোনোভাবে অবর্ণ্নীয়)

  হতে পারে কোনো দেশে, কোনো কালে, কোনো অবস্থায়, ঘটের বিদ্যমানতা ও অবিদ্যমানতা অবর্ণ্নীয় যেমন ঘট সৃজনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থাকে সংযুক্তভাবে বিশ্লেষণ করলে ঘট অবক্তব্যম এবং পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করলে ঘট বিদ্যমান ও অবিদ্যমান।

          জৈনদের স্যাদ্‌ শব্দটিকে কেন্দ্র করে তাঁদের স্যাদবাদের বিরুদ্ধে অনেক আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। অনেকে ‘স্যাদ্‌’ শব্দটিকে অর্থ করেছেন সম্ভবত। ‘স্যাদ্‌’শব্দের এই প্রকার অর্থ করলে জৈন স্যাদবাদ সংশয়বাদে পরিণত হয় যারা স্যাদবাদকে সংশয়বাদ বলেছেন তাদের ব্যাখ্যা অনুসারে, লৌকিক জ্ঞান মাত্রই সংশয়াত্মক অর্থাৎ আমাদের সকল জ্ঞানই সম্ভাব্য কিন্তু জৈনরা এরূপ অর্থ করেননি, তাঁরা বলেন কোনো এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে বস্তুসম্পর্কিত জ্ঞান আংশিক সত্য সম্পূর্ন মিথ্যা নয় কোনো এক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো একটি ফুল লাল বলে মনে হলে ওই বিশেষ দৃষ্টভঙ্গিতে ফুলটি যে লাল তা এক দৃষ্টিভঙ্গিতে আংশিক সত্য পূর্নাঙ্গ মিথ্যা নয়। জৈনদের স্যাদবাদের দ্বারা এই আংশিক লৌকিক জ্ঞানই প্রকাশ পেয়েছে কাজেই জৈনরা এমন বলেন না যে সত্য নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তাই জৈনদের স্যাদ্‌বাদকে সংশয়বাদ বলা যায় না।


Thanks For Reading : 

জৈন বলতে কী বোঝো। জৈনদের সপ্তভঙ্গি নয় ব্যাখ্যা করো। স্যাদ্‌বাদ কী একপ্রকার সংশয়বাদ 

More Post:

জৈনদের মতে স্যাৎবাদ কী ব্যাখ্যা কর

জৈন দার্শনিকদের মুক্তি সম্পর্কিত ধারণা