বি.এ. সমাজ ও রাষ্ট্র দর্শনের –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল– সচল ও নিশ্চল শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য বা সচল ও নিশ্চল শ্রেণীর পার্থক্য এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

সচল ও নিশ্চল শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য
মানব সমাজ হলো পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষকে নানারকম সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করেছে যার ফলে শিক্ষা দীক্ষা বা বৃত্তি কোন বিশেষ শ্রেণীর অন্তর্গত নয়। সমাজে প্রচলিত নিশ্চল ও সচল শ্রেণী ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্যগুলি হল –
প্রথমত
সমাজের যে শ্রেণী বিন্যাস ব্যক্তির গুনগত মানের দ্বারা নির্ধারিত হয় তাকে সচল শ্রেণী ব্যবস্থা বলা হয়। এই ব্যবস্থায় কোন ব্যক্তি তার গুনগত মর্যাদা অনুযায়ী এক শ্রেণী থেকে অন্য এক শ্রেণীতে চলাচল করতে পারে। কোন ব্যক্তি তার বংশগত বৃত্তি ত্যাগ করে যে কোন বৃত্তি গ্রহন করতে পারে। যেমন- কোন কৃষকের পুত্র শিক্ষিত হয়ে সরকারি চাকুরি করতে পারে। এ ব্যপারে কোন সামাজিক বাধা তার বিরুদ্ধে আসার সম্ভবনা থাকেনা। বিশেষ করে প্রাশ্চাত্যের দেশ গুলিতে এই ব্যপারটি ব্যপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। তবে বর্তমানে ভারতেও এই বিষয়টি অধিক প্রচলিত।
সমাজের যে শ্রেণী ব্যবস্থার এক শ্রেণীর মানুষ অন্য শ্রেণীতে চলাচল করতে পারে না তাকে, নিশ্চল শ্রেণী ব্যবস্থা বলে। নিশ্চল শ্রেণী ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায় ভারতে বংশানুক্রমিক ও সংস্কার মূলক শ্রেণী ব্যবস্থায়। এক্ষেত্রে মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনা। তবে এই ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন- কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ নিম্নে পতিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত
সচল শ্রেণী ব্যবস্থায় মানুষ ইচ্ছামতো এক শ্রেণী অন্য শ্রেণীতে চলাচল করতে পারায় তাদের শ্রেণী চেতনা বোধ অপেক্ষাকৃত কম এই ব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে সংহতির অভাব এবং বিরোধীভাব দেখা দেয়।
আর নিশ্চল শ্রেণী ব্যবস্থায় মানুষ ইচ্ছামতো এক শ্রেণী থেকে অন্য শ্রেণীতে চলাচল করতে না পারায় তাদের মধ্যে শ্রেণী চেতনা অত্যন্ত তীব্র হয়। এই ধরনের শ্রেণী ব্যবস্থায় বিরোধিভাব থাকে না, ‘আমরা সকলে’- এই মনোভাব থাকে।
Thanks For Reading
সচল ও নিশ্চল শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য
More Post:
সামাজিক শ্রেণী কি | জাতি কাকে বলে
সমাজে পরিবারের ভূমিকা কী | সমাজে পরিবারের ভূমিকা
সামাজিক প্রগতি কাকে বলে | সামাজিক প্রগতি কি
সম্প্রদায় কী | সম্প্রদায় ও সংঘের পার্থক্য
সমাজ হল সামাজিক সম্পর্কের জটাজাল”- কে বলেছেন