একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টারের এডুকেশন শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান -এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।

সংবেদন ও প্রত্যক্ষনের পার্থক্য লেখ।
সংবেদন ও প্রত্যক্ষনের পার্থক্যগুলি হল
জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া হিসাবে মানোবিজ্ঞানে সংবেদন প্রত্যক্ষন ও ধারণার উল্লেখ আছে। তবে সংবেদন ও প্রত্যক্ষণ জ্ঞান লাভের মাধ্যম হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য গুলি হল –
(i) সংবেদন হল জ্ঞান বা বোধের সহজতম রূপ। কিন্তু প্রত্যক্ষণ সংবেদনের তুলনায় অত্যন্ত জটিল। প্রত্যক্ষণের সঙ্গে ধারণা সহকারে সংবেদন যুক্ত থাকে।
(ii) সংবেদন মস্তিষ্কের প্রথম প্রতিক্রিয়া আর প্রত্যক্ষণ মস্তিষ্কের দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া।
(iii) সংবেদন জ্ঞান পদবাচ্য নয় অর্থাৎ সংবেদনে বিষয় বস্তুর আকৃতি প্রকৃতি ইত্যাদির সম্পর্কে কোনো বোধ বা ধারণা জন্মায় না বলে তা বস্তু জ্ঞান নয়। কিন্তু প্রত্যক্ষণ হল জ্ঞান। এক্ষেত্রে বস্তুর আকৃতি। প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান জন্মায়।
(iv) সংবেদন বিমূর্ত চেতনা কিন্তু প্রত্যক্ষণ মূর্ত চেতনা।
(v) সংবেদন বস্তুর আংশিক চেতনা অর্থাৎ বিষয় বস্তুর এক বা একাধিক অংশ সংবেদনের বিষয় হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে বস্তুর বিভিন্ন অংশগুলি বিচ্ছিন্নভাবে জানতে পারা যায় না, সমগ্রভাবে জানা যায়।
(vi) সংবেদন উপস্থাপনে মূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রত্যক্ষণ উপস্থাপন পুনঃউপস্থাপন মূলক প্রক্রিয়া।
(vii) সংবেদন অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সংবেদনের ক্ষেত্রে মন নিষ্ক্রিয় ভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে। কিন্তু প্রত্যক্ষণ অপেক্ষাকৃত সক্রিয় প্রক্রিয়া। অর্থাৎ মন এক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
(viii) শরীর তত্ত্বের দিক থেকে সংবেদনের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়, স্নায়ুমন্ডলী ও গুরুমস্তিষ্কের সংবেদন কেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষনের ক্ষেত্রে এসবের সঙ্গে গুরু মস্তিষ্কের সংযোগ কেন্দ্রেও উত্তেজানার সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায় সংবেদন জ্ঞানের উপাদান দেয়, আর প্রত্যক্ষণ তাদের সম্বন্ধ যুক্তি করে জ্ঞানে পরিণত করে।
প্রত্যক্ষনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখা কর। সংবেদন ও প্রত্যক্ষনের পার্থক্য লেখ।
বুদ্ধির দ্বারা বিশুদ্ধ সংবেদন যখন অর্থপূর্ন হয় তখন তাকে প্রত্যক্ষন বলে। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ হল সংবেদনের অর্থকারণ যেমন কোনো বর্ণকে যদি আমরা লাল বা নীল বর্ণ রূপ জানি তখন তা হবে প্রত্যক্ষ জ্ঞান।
বৈশিষ্ট্য / প্রত্যক্ষের স্বরূপ
প্রত্যক্ষন একটি জটিল গঠনমূলক সক্রিয় মানসিক প্রক্রিয়া। প্রত্যক্ষনের ধারনাটিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা কতকগুলি বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পাই। বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
(i) প্রত্যক্ষনের সঙ্গে মনোযোগ যুক্ত থাকে। কারণ মনোযোগ ছাড়া সংবেদনের ব্যাখা দেওয়া সম্ভব নয়।
(ii) প্রত্যক্ষন নির্বাচন মূলক প্রতি নিয়ত আমাদের সামনে যে সব বস্তু উপস্থিত হয়, আমরা তাদের সবই প্রত্যক্ষ করি না, তাদের মধ্যে থেকে এক বা একাধিক বিষয়কে নির্বাচন করে প্রত্যক্ষ করি।
(iii) প্রত্যক্ষ হল বর্তমান অভিজ্ঞতার সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতার মিলন। অর্থাৎ প্রত্যক্ষের দুটি দিক আছে একটি বর্তমানে যা উপস্থিত আছে এবং অপরটি অতীত অভিজ্ঞতার স্মৃতি।
(iv) প্রত্যক্ষন একই সাথে বিশ্লেষনাত্ত্বক ও সংশ্লেষনাত্ত্বক। প্রত্যক্ষের বিষয়টিকে নবজাতীয় বিষয় থেকে ভিন্ন করে দেখতে হয়। এটা বিশ্লেষনাত্ত্বক দিক, আবার প্রত্যক্ষের বিষয়টিকে সমজাতীয় বস্তুর সঙ্গে এক করে দেখতে হয়। এটা সংশ্লেষনাত্ত্বক দিক।
(v) প্রত্যক্ষন সংবেদন সমূহের অর্থ দেয়। তবে এই অর্থ প্রদান অনেকাংশে নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের অতীত অভিজ্ঞতা ব্যক্তির মনোভাব। মেজাজ, দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ এবং মূল্যবোধের উপর।
(vi) প্রত্যক্ষন বিষয় বস্তুর দ্বারা নির্ধারিত হয়। যেমন একই পুস্তককে অন্য পুস্তক অপেক্ষা আকারে ছোটো লাগতে পারে এবং বড় লাগতে পারে।
(vii) প্রত্যক্ষনের সাথে আবেগ বা অনুভূমি যুক্ত থাকে। যেমন সুন্দর বস্তু আমাদের আনন্দ দেয়। কিন্তু কুৎসিত আমাদের আনন্দ দেয় না।
সংবেদন ও প্রত্যক্ষনের পার্থক্য
জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া হিসাবে মানোবিজ্ঞানে সংবেদন প্রত্যক্ষন ও ধারণার উল্লেখ আছে। তবে সংবেদন ও প্রত্যক্ষণ জ্ঞান লাভের মাধ্যম হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য গুলি হল –
(i) সংবেদন হল জ্ঞান বা বোধের সহজতম রূপ। কিন্তু প্রত্যক্ষণ সংবেদনের তুলনায় অত্যন্ত জটিল। প্রত্যক্ষণের সঙ্গে ধারণা সহকারে সংবেদন যুক্ত থাকে।
(ii) সংবেদন মস্তিষ্কের প্রথম প্রতিক্রিয়া আর প্রত্যক্ষণ মস্তিষ্কের দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া।
(iii) সংবেদন জ্ঞান পদবাচ্য নয় অর্থাৎ সংবেদনে বিষয় বস্তুর আকৃতি প্রকৃতি ইত্যাদির সম্পর্কে কোনো বোধ বা ধারণা জন্মায় না বলে তা বস্তু জ্ঞান নয়। কিন্তু প্রত্যক্ষণ হল জ্ঞান। এক্ষেত্রে বস্তুর আকৃতি। প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান জন্মায়।
(iv) সংবেদন বিমূর্ত চেতনা কিন্তু প্রত্যক্ষণ মূর্ত চেতনা।
(v) সংবেদন বস্তুর আংশিক চেতনা অর্থাৎ বিষয় বস্তুর এক বা একাধিক অংশ সংবেদনের বিষয় হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে বস্তুর বিভিন্ন অংশগুলি বিচ্ছিন্নভাবে জানতে পারা যায় না, সমগ্রভাবে জানা যায়।
(vi) সংবেদন উপস্থাপনে মূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রত্যক্ষণ উপস্থাপন পুনঃউপস্থাপন মূলক প্রক্রিয়া।
(vii) সংবেদন অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সংবেদনের ক্ষেত্রে মন নিষ্ক্রিয় ভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে। কিন্তু প্রত্যক্ষণ অপেক্ষাকৃত সক্রিয় প্রক্রিয়া। অর্থাৎ মন এক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
(viii) শরীর তত্ত্বের দিক থেকে সংবেদনের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়, স্নায়ুমন্ডলী ও গুরুমস্তিষ্কের সংবেদন কেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষনের ক্ষেত্রে এসবের সঙ্গে গুরু মস্তিষ্কের সংযোগ কেন্দ্রেও উত্তেজানার সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায় সংবেদন জ্ঞানের উপাদান দেয়, আর প্রত্যক্ষণ তাদের সম্বন্ধ যুক্তি করে জ্ঞানে পরিণত করে।
Thanks For Reading:
শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান একাদশ শ্রেণি
More Post:
শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক