মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে বিবেকানন্দ

বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে স্বামী বিবেকানন্দ’ আকাশ’ এবং প্রান থেকে যাবতীয় জড় ও শক্তির বিকাশের মাধ্যমে যেভাবে সৃষ্টি প্রনালী ব্যাখ্যা করেছেন তা সংক্ষেপে লেখ। এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে বিবেকানন্দ
মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে বিবেকানন্দ

 

মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে বিবেকানন্দ

প্রশ্ন

মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে স্বামী বিবেকানন্দ ’আকাশ’ এবং প্রান থেকে যাবতীয় জড় ও শক্তির বিকাশের মাধ্যমে যেভাবে সৃষ্টি প্রনালী ব্যাখ্যা করেছেন তা সংক্ষেপে লেখ। 

উত্তর 

নিউইয়র্কে প্রদত্ত বক্তিতায় মানুষের যথার্থ স্বরূপ ব্যাখ্যায় স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মের মত আলোচনা প্রসঙ্গে আকাশ এবং প্রান থেকে যাবতীয় জড় ও শক্তির বিকাশের মাধ্যমে সৃষ্টি  প্রনালীকে ব্যাখ্যা করেছেন।

      হিন্দু মতে সমুদয় জড় জগত আকাশ নামক পদার্থ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।  আমরা চারিদিকে যা কিছু দেখি, স্পর্শ করি, বা আস্বাদ করি যা কিছু অনুভব করি – সবই এই আকাশের বিভিন্ন বিকাশ মাত্র। এই আকাশ সূক্ষ ও সর্বব্যাপী, কঠিন, তরল, বাস্পীয়, সকল আকৃতি ও শরীর, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, তারা – এ সবই আকাশ থেকে উৎপন্ন।

         এখন প্রশ্ন হল কোন শক্তি কার্য করে আকাশ নামক পদার্থ থেকে এই সমুদয় জগত সৃষ্টি হল? আকাশের সঙ্গে একটি সর্বব্যাপী শক্তি ক্রিয়া করে জগতের সৃষ্টি হয়েছে। জগতে যত প্রকারের শক্তি আছে যেমন আকর্ষন – বিকর্ষন, চিন্তা শক্তি সবই প্রাণ নামক একটি মহাশক্তির বিকাশ এই প্রাণ নামক শক্তি। সৃষ্টির প্রারম্ভে অনন্ত আকাশ সমুদ্রে সূপ্ত থাকে। সৃষ্টির প্রারম্ভে আকাশ গতিহীন অবস্থায় ছিল, পরে প্রাণের প্রভাবে এই আকাশ সমুদ্রে গতি উৎপন্ন  হয়। তখন জগত সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ও সর্বপ্রকার পদার্থ তরল, তরল পদার্থ কম্পে পরিনত হয় অর্থাৎ এই সব পদার্থ যা কিছু থেকে  উৎপন্ন হয়েছিল তাতে লীন হয়ে যায় অর্থাৎ  লীন হয়ে যায়। আবার আকর্ষন–বিকর্ষন ও চিন্তারূপে সমুদয় শক্তি প্রানে লীন হয়ে যায়। 

                  স্বামী বিবেকানন্দের মতে, এই ভাবে সৃষ্টি প্রনালী চলেছে, একবার পশ্চাতে, আবার একবার সম্মুখে চলেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে কিছু কাল স্থিতিশীল, কিছু কাল গতিশীল; একবার সুপ্ত, একবার ক্রিয়াশীল এইরূপ পরিবর্তন অনন্তকাল ধরে চলেছে।


Thanks For Reading

মানুষের যথার্থ স্বরূপের অনুসন্ধানে স্বামী বিবেকানন্দ ’আকাশ’ এবং প্রান থেকে যাবতীয় জড় ও শক্তির বিকাশের মাধ্যমে যেভাবে সৃষ্টি প্রনালী ব্যাখ্যা করেছেন তা সংক্ষেপে লেখ।

More Post:

ব্যাপ্তি কাকে বলে | ব্যাপ্তি নির্নয় কীভাবে হয়

পরামর্শ কী | পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

অনুমিতির লক্ষণ দাও | পক্ষ সাধ্য ও হেতুর পরিচয়


 

Leave a Comment