বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – বিবেকানন্দের মতে প্রতিটি ধর্মের যে তিনটি বিভাগ আছে সেগুলি আলোচনা কর এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

বিবেকানন্দের মতে প্রতিটি ধর্মের যে তিনটি বিভাগ আছে সেগুলি আলোচনা কর।
যুব নায়ক স্বামী বিবেকানন্দের মতে প্রতিটি ধর্মের তিনটি উপাদান বা বিভাগ আছে। এই বিভাগ তিনটি গুলি হল – ১. দর্শন ২. পুরানতত্ত্ব ৩. আচারাদি। এই তিনটি উপাদান দিয়ে প্রত্যেকটি ধর্ম গড়ে উঠেছে। ধর্মের তিনটি উপাদান এখন আলোচনা করা হল।
১. দর্শন
ধর্মের মৌলিক নীতি, লক্ষ্য ও লক্ষ্য লাভের উপায় নিয়ে আলোচনা করে দর্শন। দর্শনের কাজ হল প্রকৃত সত্যের জ্ঞান লাভ করে। প্রত্যেক ধর্ম সত্যের অনুসন্ধান করে। তাই কোন উপায় প্রকৃত সত্যজ্ঞান লাভ করা যায় – ধর্মের এই দিকটি আলোচলা করে দর্শন। যেমন – বৌদ্ধ ধর্মে মোক্ষ বা মুক্তি লাভেই চরম লক্ষ্য। এই লক্ষে উপনীতি হওয়ার জন্য যে মার্গ গৌতমবুদ্ধ দেখিয়েছেন তার আলোচনা করে দর্শন।
২. পুরানতত্ত্ব
পুরানতত্ত্ব মানব ও অতিমানবের নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার পথে দুনিবার যাত্রা সম্বন্ধীয় রূপকথা আলোচিত হয়। বিবেকানন্দ বলেছেন – পুরানতত্ত্ব মানব ও অতিমানবের কালপনিক চরিত্র রচনা করে দর্শনকে মূর্ত বা বাস্তব করে তোলে। ধর্মের যখন গ্লানি দেখা দেয় তখন ভগবান মানব ও অতিমানবের রূপ ধরে ধর্মকে নতুন করে স্থাপন করেন। পৌরানিক তত্ত্ব দিয়েই আমরা প্রত্যেক ধর্মের উৎপত্তি ও বিবতনের ইতিহাস জানতে পারি। ধর্মের অমূর্ত বিষয় মূর্ত হয়ে ওঠে পুরানতত্ত্বের দ্বারা।
৩. আচার – আচারন
স্বামী বিবেকানন্দের মতে ধর্মের আচারাদি গড়ে ওঠে বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠানের দ্ধারা। এই অনুষ্ঠাগুলি মানুষকে ধর্ম – কর্মে সচল রাখে এবং তাদের ধর্মীয় শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করে। যেমন – শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রী মা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের আচারাদির ভিত্তিতেই রামকৃষ্ণ – মিলন রূপে শক্তিশালী ধর্মীয় সংগঠন গড়ে উঠেছে।
তবে, প্রতিটি ধর্মের দর্শন, পুরানতত্ত্বঃ ও আচারাদি ভিন্ন হওয়ার ধর্মীয় ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়। তাই স্বামী বিবেকানন্দের এমন ধর্মের কথা বলেছেন যা সকল ভেদাভেদের ঊর্দ্ধে – এই ধর্মই হল বিশ্বজনীন ধর্ম।
Thanks For Reading
বিবেকানন্দের মতে প্রতিটি ধর্মের যে তিনটি বিভাগ আছে সেগুলি আলোচনা কর।
More Post:
অদ্বৈতজ্ঞান উপলব্ধি করা কী সম্ভব
রাজ যোগের আলচ্য বিষয় কী বিবেকানন্দের মতে