বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – ভক্তি যোগ সম্বন্ধে বিবেকানন্দ কী বুঝিয়েছেন এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

ভক্তি যোগ সম্বন্ধে বিবেকানন্দ কী বুঝিয়েছেন
স্বামী বিবেকানন্দের মতে অকপটভাবে ইশ্বর অনুসন্ধানেই হল ভক্তি যোগ। নারদ ভক্তি সূত্রে বলেছেন – ভগবানে পরম প্রমই হল ভক্তি। স্বামীজির মতে ভক্তির আদি, মধ্য ও অন্ত হল প্রীতি। ভক্তি যোগের মাধ্যমে যোগী পুরুষ সর্বভূতে প্রেমবান ও ঘৃনাশূন্য হয় এবং অনন্ত কালের জন্য তৃপ্তি লাভ করে। এই প্রেমের দ্বারা কোন কায্য বস্তু লাভ হয় না, কারণ যেখানে বিষয় বাসনা থাকে সেখানে প্রেম থাকতে পারে না । আমরা বলি আমি ভক্ত, ভগবানকে ভালোবাসি, অথচ ভগানের কাছে বিষয় – সম্পদ – স্বাস্থ্য কামনা করি – এটা ভক্তির লক্ষন নয় কারণ এখানে প্রেম নেই। অর্থাৎ যেখানে বিষয় বাসনা থাকে সেখানে প্রেম থাকতে পারে না, আর প্রেম ব্যতীত ভক্তি নিরর্থক। তাই প্রেমই হল ভক্তির আদি, মধ্য ও অন্ত।
মানুষের জীবনের চরম লক্ষ হল ইশ্বর লাভ। ভক্তি যোগ হল সর্বাপেক্ষা সহজ ও স্বাভাবিক পন্থা , যার মাধ্যমে চরম লক্ষ ইশ্বরে পৌঁছানো যায়। তবে এক্ষেত্রে স্বামীজি একটি বিপদের আশঙ্কা করেছেন এই যে, নিন্মস্তরের ভক্তি অনেক সময় ভয়ানক গোঁড়ামির আকার ধারন করে। প্রত্যেক ধর্মেই এইরূপ নিন্মস্তরের ভক্ত দেখা যায়, যার ধর্মকে ছোঁয়াছুয়ির রান্না ঘরে পরিনত করে , ভেদাভেদ তৈরি করে। যে ইষ্ট নিষ্ঠা ব্যতীত প্রেম জন্মায় না , সেই ইষ্ট নিষ্ঠাই আবার অনেক সময় সকল মতের উপর তীত্র আক্রমণ ও দোষারোপের কারণ হয়। এইরূপ ভক্তি বা ভালোবাসাকে স্বামীজী বলেছেন – প্রভুর সম্পত্তিতে অপরের হস্তক্ষপ নিবারনের জন্য কুকুর সুলভ সহজ প্রকৃতির মতো।
তবে এইরূপ আশঙ্খা কেবল ভক্তির নিম্ন স্তরের আছে , যাক গৌনী বলে । এই নিম্ন স্তরের ভক্তি যখন পরিণত হয়ে পরাভক্তির পরিনত হয় তখনই সাধক প্রেমস্বরূপ ভগবানকে লাভ করেন। রাধার কৃষ্ণ প্রেম, শ্রী রামকৃষ্ণের মাতৃপ্রেম, মীরাবাই – এর গবিন্দ প্রেম পরাভক্তির চরম দৃষ্টান্ত।
Thanks For Reading
ভক্তি যোগ সম্বন্ধে বিবেকানন্দ কী বুঝিয়েছেন
More Post:
অদ্বৈতজ্ঞান উপলব্ধি করা কী সম্ভব
রাজ যোগের আলচ্য বিষয় কী বিবেকানন্দের মতে