বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – বিবেকানন্দের মতে ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ কী এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

বিবেকানন্দের মতে ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ কী
ধর্ম হল ব্যক্তি ও সমাজের অবিচ্ছেদ অঙ্গ। মানুষ তার জাগতিক প্রয়োজন ছারা ধর্মীয় আকাঙ্খাকে জীবনের পরম লক্ষ্য করতে পারেন। বিবেকানন্দ কথাটিতে এই ভাবে বলেছেন মানুষের মধ্যে রয়েছে বৃহৎত্তর ও উন্নততর কোন কিছুর আকাঙ্খা , যা বাহ্য জগতের কোন কিছু দিয়ে পরিতৃপ্ত করা যায় না। বিবেকানন্দ মনে করেন ধর্মের আন্তর দিকটা মানুষের প্রকৃতির মধ্যে নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম একটি অতিপ্রাকৃত উপাদান। ধর্ম কেবলমাত্র ইন্দ্রিয় শক্তিকে অতিক্রম করে না। সেটি আমাদের বিচার শক্তিকে অতিক্রম করে যায়।
বিবেকানন্দ ধর্মের একটি সমাজিক বৈশিষ্ঠের উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ ধর্মকে নৈতিকতার ভিত্তি দান করেছেন। তবে ধর্ম প্রতিষ্ঠানিক নয় , প্রকৃত ধর্ম হবে সর্বজনীন বা বিশ্বজনীন। সব জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজমান বলে জীব সবাই ঈশ্বর সেবা। নিজের অন্তর আত্মার উপলব্ধিই হল ধর্ম। তাই বিবেকানন্দ জীব সেবাকে শীব সেবা বলে মনে করেছেন।
অতএব ধর্ম বাস্তবিক পক্ষে মানুষের আত্মা সম্পকীয়। আর এই আত্মাই অব্যক্ত ব্রহ্ম। এই অবক্ত ব্রহ্মের প্রকাশাই হল ধর্ম পালন। অর্থাৎ ধর্ম এক মানবিকতাকে স্বীকার করে। মানবিকতার বিকাশ ঘটলে মানুষের মধ্যে অমঙ্গল বলে আর কিছু থাকে না, দুঃখ বলে আর কিছু থাকে না।
Thanks For Reading
বিবেকানন্দের মতে ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ কী
More Post:
বিবেকানন্দের ‘তত্ত্বমসি’ শব্দটির প্রয়োগ লেখ
বিবেকানন্দের মতে মানুষের যথার্থ স্বরূপ লেখ