বি.এ. দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – অদ্বৈত বেদান্তের সঙ্গে ব্যবহারিক বেদান্তের পার্থক্য উল্লেখ করো এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

অদ্বৈত বেদান্ত ও ব্যবহারিক বেদান্তের পার্থক্য
অদ্বৈত বেদান্তের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা হলেন শঙ্করাচার্য। আর ব্যবহারিক বেদান্তের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে উভয় বেদান্তের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? উত্তরে বলা যায় যে, শঙ্করাচার্য যেখানে তত্ত্বকে বিশুদ্ধ রূপে তুলে ধরেছেন, সেখানে স্বামীজি সেই তত্ত্বকে কার্যে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন। আচার্য শঙ্কর কর্ম এবং জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ দেখিয়েছিলেন, কিন্তু স্বামীজি উভয়ের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপনের চেষ্ঠা করেছেন। শঙ্করাচার্যের দৃষ্টিতে জ্ঞানের রূপটি যেখানে স্ব-মহিমায় প্রতিষ্ঠিত স্বামীজির কাছে তা মানবের উন্নতি পথে পথ নিদর্শক অর্থাৎ মানবজাতির মঙ্গল বা উন্নতির জন্য তিনি যে পথের নির্দেশ দিয়েছেন তার ভিত্তি ভূমি হল অদ্বৈত বেদান্ত।
বিবেকানন্দ বলেন, বেদান্ত দাবি করে যে, কোনো এক ধর্মীয় অণুপ্রেরণা যতই বড় হোক না কেন তা মানবের একক প্রকাশ হতে পারে না তা হল মানব প্রকৃতির মধ্যে অসীম একত্বের প্রকাশ। এই একত্বের প্রকাশকে আমরা প্রেম সহানুভূতি বলে থাকি। বেদান্তে তাই বলা হয়েছে ত্বৎ, তম, ওসি – ‘’ যা আমি তুমি সেই”। প্রত্যেক মানুষকে বেদান্ত এই শিক্ষা দেয় যে প্রতিটি জীব এই বিশ্ব সত্ত্বরা সঙ্গে এক ও অভিন্ন। তাই যত আত্মা আছে সব তোমারই আত্মা, যত জীবদেহ আছে তা সব তোমারই জীবদেহ। কাজেই কাউকে আঘাত করার অর্থ নিজেকে আঘাত করা, কাউকে ভালোবাসার অর্থ নিজেকে ভালোবাসা তুমি যদি প্রেম বিতরণ কর প্রতিদানে তুমিও তা ফিরে পাবে। কারণ আমি সমগ্র বিশ্ব। তবে সম্প্রতি আমার এই অনুভূতি নেই। কিন্তু আমি সেই অসীমতার অনুভূতি লাভের জন্য সাধানায় মনোনিবেস করেছি। এবং আমার মধ্যে এই পূর্ন চেতনার উন্মেষ ঘটবে।
Thanks For Reading
অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে। অদ্বৈত শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
More Post:
অদ্বৈতজ্ঞান উপলব্ধি করা কী সম্ভব
রাজ যোগের আলচ্য বিষয় কী বিবেকানন্দের মতে
অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রনেত কে