রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের উৎস গুলির পরিচয় দাও

একাদশ শ্রেনী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শনের প্রশ্নউত্তর পর্বে আজকের আলচনার বিষয় হল- রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের বিভিন্ন উৎস গুলির পরিচয় দাও। এটি রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন থেকে নেওয়া হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের উৎস গুলির পরিচয় দাও
রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের উৎস গুলির পরিচয় দাও
রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের বিভিন্ন উৎস গুলির পরিচয় দাও

 

 ভূমিকা

বিশ্ববরেণ্য কবিশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চিন্তাধারায় মানবতাবাদের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শনের মূল উৎসগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

উৎস হিসাবে অদ্বৈত বেদান্ত 

মানবতাবাদের মূল কথা হল জীব হিসাবে পৃথিবীর সকল মানুষকে সমান গুরুত্ব দেওয়া বা সমভাবে ভালোবাসা। অদ্বৈত বেদান্তে এক ও অদ্বিতীয় ব্রহ্মের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সমস্ত জীব ব্রহ্মস্বরূপ। অদ্বৈত বেদান্তে এমন দার্শনিক ভাবনাই রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের মূল উৎস।

উৎস হিসাবে ধর্ম 

ধর্ম মানুষের জীবনের সাথে একাত্ম হয়ে আছে। তাই এমন কোনো সমাজ নেই যেখানে ধর্ম একেবারেই অনুপস্থিত। মানুষ ও মানুষের সমাজকে জানতে গেলে ধর্মের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। পাশ্চাত্য দার্শনিক মাক্স মূলার বলেছেন – ‘মানুষের প্রকৃত ইতিহাস হল ধর্মের ইতিহাস।’ রবীন্দ্রনাথও মানুষের জীবন থেকে ধর্মের বিষয়টি বাদ দেননি। তবে রবীন্দ্রনাথ চিরাচরিত মতবাদ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ধর্মকে মানবতাবাদের দৃষ্টিতে সূচিত করেছেন।

উৎস হিসাবে জীবভাব ও বিশ্বভাব 

প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে দুটি সত্ত্বা আছে, জীবসত্ত্বা ও বিশ্বসত্ত্বা। জীবসত্ত্বা থেকে আসে জীবভাব। বিশ্বসত্ত্বা থেকে আসে বিশ্বভাব। স্বার্থযুক্ত চিন্তা হল জীবভাব এবং সামগ্রিক মানুষের চিন্তা করা হল বিশ্বভাব জীবভাবকে অতিক্রম করে বিশ্বভাবের মাধ্যমেই মানুষ মানবতাবাদের পূজারী হয়ে ওঠে।

উৎস হিসাবে মানবচেতনা 

রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের চেতনা হল সর্বশ্রেষ্ঠ চেতনা। সর্বশ্রেষ্ঠ চেতনা বলেই মানুষ জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। এরূপ বিকাশের ফলে মানুষ নিজের ক্ষুদ্র চেতনার গন্ডি পেরিয়ে মানবসত্ত্বার চেতনার দ্বারে উপস্থিত হয়।

সুতরাং অদ্বৈত বেদান্ত, ধর্ম, জীবভাব ও বিশ্বভাব ও মানবচেতনাই হল রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের ধারণার মূল উৎস।


Thanks For Reading: রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের বিভিন্ন উৎস গুলির পরিচয় দাও.

Related Post: