সন্নিকর্ষ কাকে বলে | লৌকিক সন্নিকর্ষের উদাহরণ

বি.এ. ন্যায় দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – সন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝ। ন্যায় মতে বিভিন্ন প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ গুলি উদাহরণ সহ আলোচনা করো এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

সন্নিকর্ষ কাকে বলে | লৌকিক সন্নিকর্ষের উদাহরণ
সন্নিকর্ষ কাকে বলে | লৌকিক সন্নিকর্ষের উদাহরণ

 

সন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝ। ন্যায় মতে বিভিন্ন প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ গুলি উদাহরণ সহ আলোচনা করো।  

          সন্নিকর্ষ শব্দটির অর্থ হলে সম্বন্ধ। তবে যেকোনো সম্বন্ধকেই সন্নিকর্ষ বলা যাবে না। ইন্দ্রিয়ের সাথে তার গ্রাহ্য বিষয়ের সম্বন্ধকেই সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় মতে সন্নিকর্ষ দুই প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ ও অলৌকিক সন্নিকর্ষ। ইন্দ্রিয়ের সামনে বিষয় উপস্থিত থাকলে, তার সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের যে সরাসরি সন্নিকর্ষ হয়, তাকে লৌকিক সন্নিকর্ষ বলে। ন্যায় দর্শনে প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের উল্লেখ করা হয়েছে। যথা – 

(i) সংযোগ সন্নিকর্ষ

দ্রব্যের সাথে দ্রব্যের সন্নিকর্ষ হল সংযোগ সন্নিকর্ষ। এদের মধ্যে অবয় -অবয়বী ভাব থাকে না। ঘট দ্রব্য, চক্ষু ও দ্রব্য। ঘট যেমন অসংখ্য পরমাণু সংযোগ, চক্ষুরইন্দ্রিয় তেমনই তেজকনিকা সংযোগ অর্থাৎ ঘট দ্রব্য চক্ষুর ইন্দ্রিয় ও দ্রব্য। তাই ঘটের প্রত্যক্ষ ঘট ও চক্ষু ইন্দ্রিয়ের মধ্যে যে সম্বন্ধ হয় তা সংযোগ সন্নিকর্ষ। মনের সাথে আত্মদ্রব্যের প্রত্যক্ষে সংযোগ সন্নিকর্ষ হয় কারণ মন দ্রব্য আত্মাও দ্রব্য।

(ii) সংযুক্ত সমবায় সন্নিকর্ষ

 দ্রব্যগত গুন জাতি ও কর্মের প্রত্যক্ষে সংযুক্ত সমবায় সন্নিকর্ষ স্বীকার করা হয়। চক্ষুর দ্বারা ঘটের রূপ প্রত্যক্ষে সংযুক্ত সমবায় সন্নিকর্ষ হয়। এক্ষেত্রে চক্ষুর সঙ্গে রূপের সম্বন্ধ সাক্ষাৎ নয়, পরমপরাগত। প্রথমেই চক্ষুর সঙ্গে ঘটে সংযোগ সম্বন্ধ হয় এবং ওই ঘটে রূপ সমবায় সম্বন্ধে আশ্রিত থাকো কাজেই চক্ষুর সঙ্গে রূপের পরম্পরাগত সন্নিকর্ষ হল সংযুক্ত সমবায় সন্নিকর্ষ। একইভাবে ঘ্রান ও রসনার দ্বারা গন্ধ ও রসের প্রত্যক্ষে সংযুক্ত সমবায় সন্নিকর্ষ হয়।

(iii) সংযুক্ত-সমবেত সমবায় সন্নিকর্ষ

দ্রব্যগত, গুণগত, কর্মগত জাতির প্রত্যক্ষে সংযুক্ত সমবেত-সমবায় সন্নিকর্ষ হয়। যেমন -একটি লাল গোলাপের লাল রঙের যে লালত্ব জাতি আছে তার প্রত্যক্ষে সংযুক্ত-সমবেত সমবায় সন্নিকর্ষ হয়। কারণ এক্ষেত্রে প্রথমে চক্ষুর সাথে গোলাপের সংযোগ হয়, যে গোলাপের লাল রং সমবায় সমন্ধে থাকে এবং সেই রং এ লালত্ব জাতি সমবেত হয়ে থাকে। এইভাবে চক্ষু ইন্দ্রিয়ের দ্বারা লাল গোলাপের লালত্ব জাতি প্রত্যক্ষ সংযুক্ত সমবেত সমবায় সন্নিকর্ষের দ্বারা হয়।

(iv) সমবায় সন্নিকর্ষ

নৈয়ায়িকগণ আকাশ নামক অতীন্দ্রিয় দ্রব্যের শব্দনামক গুণের প্রত্যক্ষকে ব্যাখ্যা করার জন্য সমবায় সন্নিকর্ষ স্বীকার করেছেন। শব্দের প্রত্যক্ষ হয় শ্রবনেন্দ্রিয়ের দ্বারা ন্যায় মতে শ্রবনেন্দ্রিয় আকাশ স্বরূপ অর্থাৎ কর্ণবিবরাচ্ছিন্ন আকাশই হল শ্রবনেন্দ্রিয়। আকাশ হল দ্রব্য এবং শব্দ হল গুণ। শব্দ নামক গুণ আকাশে সমবায় সম্পর্কে থাকে। সুতরাং, আকাশ স্বরূপ শ্রবনেন্দ্রিয়ের সাথে শব্দের সমবায় সন্নিকর্ষ হয়।

(v) সমবেত সমবায় সন্নিকর্ষ

 শব্দ নামক গুনে অবস্থিত শব্দত্ব নামক জাতির প্রত্যক্ষে সমবেত সমবায় সন্নিকর্ষ হয়। কর্ণেন্দ্রিয়ের সাথে শব্দের প্রথমে সমবায় সন্নিকর্ষ হয় এবং সেই শব্দে শব্দত্ব নামক জাতি সমবেত হয়ে থাকে।

(vi) বিশেষন বিশেষ্যভাব সন্নিকর্ষ

   নৈয়ায়িকগণ অভাবের প্রত্যক্ষ ও সমবায়ের প্রত্যক্ষ বিশেষণ বিশেষ্যভাব সন্নিকর্ষ স্বীকার করেছেন। তবে অভাবের সন্নিকর্ষে বিশেষ্যভাব সন্নিকর্ষ এবং বিশেষণ ভাব সন্নিকর্ষ উভয়েই হতে পারে কারণ অভাব তার অধিষ্ঠানে কখনো বিশেষ্যরূপে এবং কখনো বিশেষন রূপে থাকে যেমন ঘটাভাব বিশিষ্ট ‘ভূতল’- এখানে ভূতল বিশেষন এবং ঘটাভাব বিশেষ্য তাই ঘটাভাবের সঙ্গে চক্ষুর ইন্দ্রিয়ের সংযুক্ত বিশেষ্যতা সন্নিকর্ষ হয়। 


Thanks For Reading

সন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝ। ন্যায় মতে বিভিন্ন প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ গুলি উদাহরণ সহ আলোচনা করো।  

More Post:

ব্যাপ্তি কাকে বলে | ব্যাপ্তি নির্নয় কীভাবে হয়

পরামর্শ কী | পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

অনুমিতির লক্ষণ দাও | পক্ষ সাধ্য ও হেতুর পরিচয়