মানবতাবাদ কী | রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতাবাদ

একাদশ শ্রেনী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শনের প্রশ্নউত্তর পর্বে আজকের আলচনার বিষয় হল- মানবতাবাদ কী? রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিশ্বমানবতাবাদের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো । এটি রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন থেকে নেওয়া হয়েছে। একাদশ শ্রেনীর দর্শনের এটি ৬ Marks এর প্রশ্ন উত্তর।

মানবতাবাদ কী  রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতাবাদ
মানবতাবাদ কী রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতাবাদ

 

মানবতাবাদ কী| রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিশ্বমানবতাবাদের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো

মানবতাবাদ কী

মানবতাবাদের ইংরাজী প্রতিশব্দ হল ‘Humanism’ এবং এই শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘Humanitas’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘Humanitas’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হল জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন। সুতরাং মানবতাবাদের পূর্ণ অর্থ হল যা মানুষের জীবনে পরিপূর্ণ বিকাশকে সূচিত করে। এমন পরিপূর্ণ বিকাশ মানুষকে নিজের ক্ষুদ্রসত্ত্বার সীমানা থেকে পরমসত্ত্বার চেতনার দ্বারে উপস্থিত করে। আর এইরূপ চেতনাই হল শান্তিপূর্ণরূপ, মানুষের অন্তনিহিত শক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ।

সহজকথায় বলা যায়, শুধুমাত্র ব্যক্তির নিজের বা গোষ্ঠীর অথবা জাতির মঙ্গলের কথা চিন্তা না করে, যদি সামগ্রিকভাবে মানবসমাজের মঙ্গলের কথা চিন্তা করা হয় তখন তাকেই বলা হয় মানবতাবাদ। এই মানবতাবাদ -ই হল আধুনিক মানবধর্মের মূল ভিত্তি।

বিশ্বমানবতাবাদের তাৎপর্য 

রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের দুটি সত্ত্বা আছে। একটি হল জীবসত্ত্বা এবং অপরটি হল মানবসত্ত্বা। মানুষ জীবরূপে বাঁচতে চায় তার জৈবিক ও ব্যবহারিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই জৈবিক ও স্বার্থজনিত কামনাই হল জীবসত্ত্বা। জীবসত্ত্বা থেকে সৃষ্টি হয় জীবভাব, যে ভাব ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

তবে মানুষ কেবলমাত্র জীবসত্ত্বা নিয়েই বাঁচতে চায়না। নিজ স্বার্থজনিত কামনার বাইরে মানুষের যে ব্যাপক সত্ত্বা আছে তা হল মানবসত্ত্বা। মানবসত্ত্বা থেকে সৃষ্টি হয় বিশ্বভাব। এই বিশ্বভাব মানুষকে তার নিজস্বার্থের সীমা অতিক্রম করিয়ে পরমসত্ত্বার দ্বারে উপস্থিত করে। অর্থাৎ মানুষের শাশ্বত চিরন্তন মানবসত্ত্বার জাগরণ হয়, যে সত্ত্বার কোনো মৃত্যু নেই। এই চিরন্তন শাশ্বতসত্ত্বাই মানুষের অন্তরের আদর্শের আলোকে প্রজ্জ্বলিত করে বিশ্ব দরবারে হাজির করে।

রবীন্দ্রনাথ আরও বলেছেন মানুষের জীবভাব ‘অহং’ এর সঙ্গে তুলনীয়, কিন্তু বিশ্বভাব ‘আত্মার’ সঙ্গে তুলনীয়। অহং হল প্রদীপ স্বরূপ, কিন্তু আত্মা হল শিখাস্বরূপ। শিখা শুধু নিজেকে প্রকাশ করে। শিখা তাই প্রদীপের ক্ষুদ্র সীমানাকে অতিক্রম করে। বিশ্বনিখিলের মধ্যে প্রবেশ করে। মানুষের আত্মা এভাবে যখন বিশ্বচেতনার দীপশিখাকে প্রজ্জ্বলিত করে তখন ক্ষুদ্র অহং সত্ত্বার সীমা অতিক্রম করে মানুষ বিশ্বসত্ত্বার মধ্যে প্রবেশ করে। এইরূপ চেতনাই হল প্রকৃত মানবধর্ম, যার আর এক নাম বিশ্বমানবতা।


Thanks For Reading: মানবতাবাদ কী? রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিশ্বমানবতাবাদের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।

Related Post: