বি.এ. ন্যায় দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – ন্যায় মতে ব্যাপ্তি কয়প্রকার ও কী কী। উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা করে এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

ন্যায় মতে ব্যাপ্তি কয়প্রকার ও কী কী। উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা করে
ন্যায় দর্শনে ব্যাপ্তি দুই প্রকার। যথা – সমব্যাপ্তি ও বিষমব্যাপ্তি
সমব্যাপ্তি
যখন কোন অনুমানে হেতু ও সাধ্যের অর্থাৎ ব্যাপ্য ও ব্যাপকের বিস্তৃতি সমান নয় তখন সেই ব্যাপকে সমব্যাপ্তি বলে। সমব্যাপ্তির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় একটি অন্যটির ব্যাপ্য ও ব্যাপক হয়। যেমন – ‘সকল উৎপত্তিশীল বস্তু হয় বিনাশশীল’ – এখানে উৎপত্তিশীল বস্তু ও বিনাশশীল বস্তু সমব্যাপক, কেননা যার উৎপত্তি আছে তার বিনাশ আছে, আবার যার বিনাশ আছে তার উৎপত্তি আছে। কাজেই এক্ষেত্রে যেকোনো একটি থেকে অপরটিকে বৈধভাবে অনুমান করা যায়।
বিষমব্যাপ্তি
যে ব্যাপ্তি সম্বন্ধে ব্যাপ্য ব্যাপকের বিস্তৃতি সমান হয়না তাকে বিষমব্যাপ্তি বলে।
যেমন – ধূমের সঙ্গে বহ্নির ব্যাপ্তি সম্বন্ধ। ধূম বহ্নি অপেক্ষা কম স্থানে থাকে, বহ্নি ধূম অপেক্ষা বেশি স্থানে থাকে। যেখানে ধূম থাকে সেখানে বহ্নি থাকে কিন্তু বহ্নি থাকলে ধূম নাও থাকতে পারে। যেমন – তপ্ত লোহা পিন্ড। তপ্ত লোহ পিন্ড – এ বহ্নি থাকে কিন্তু ধূম থাকে না। এরজন্য আমারা ধূম দেখে বহ্নির অনুমান করতে পারি কিন্তু বহ্নি দেখে ধূমের অনুমান করতে পারিনা। সুতরাং বিষমব্যাপ্তি হল ব্যাপ্য ব্যাপকের সহচর সম্বন্ধ।
Thanks For Reading
ন্যায় মতে ব্যাপ্তি কয়প্রকার ও কী কী। উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা করে
More Post:
ন্যায় মতে লৌকিক সন্নিকর্ষ কাকে বলে