বি.এ. জৈন দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – জৈন দার্শনিকদের মুক্তি সম্পর্কিত ধারণাটি ব্যাখ্যা করো এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

জৈন দার্শনিকদের মুক্তি সম্পর্কিত ধারণাটি ব্যাখ্যা করো
জৈন মতে বন্ধন যেমন জীবের সঙ্গে পুদ্গল সংযুক্তি, মুক্তি তেমনই জীব থেকে পুদগল বিযুক্তি। আশ্রব হল দেহবন্ধনের কারণ, আর ‘সংবর’ হল মুক্তির কারণ যে উপায়ে কর্ম পুদগল জীব বা আত্মাকে আশ্রয় করে। জৈনরা তাঁকে আশ্রব বলেছেন এবং যে উপায়ে কর্ম পুদগল আত্মা থেকে বিযুক্ত হয় জৈনরা তাকে ‘সংবর’ বলেছেন। অর্থাৎ সংবরের দ্বারাই আশ্রবের পথ রুদ্ধ করা যায়।
জৈন দার্শনিকগন জীবনকে দুঃখময় বললেও তাঁরা মুক্তির আশাবাদী। জীব তার নিজ প্রচেষ্ঠায় দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেনি এর জন্য প্রয়োজন হল ইচ্ছাপ্রসূত নিস্কাম কর্ম করা। ভোগ লালসা পরিত্যাগের দ্বারা আশ্রবের পথ রুদ্ধ করা যায় অর্থাৎ আত্মার মধ্যে নতুন কর্ম পুদ্গলে প্রবেশ পথ রুদ্ধ করাই হল সংবর তাই সংবর ব্যাতিত মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। কিন্তু সংবরের দ্বারা আত্মাতে নতুন কর্ম পুদগলে প্রবেশ রুদ্ধ করা গেলেও, পূর্বে অর্জিত কর্মে পুদগল বিনষ্ট হয় না এবং পূর্বে অর্জিত কর্মে পুদগল বিনষ্ট হলে মুক্তি লাভও সম্ভব হতে পারে না। তাই মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজন হল পূর্বে অর্জিত কর্ম পুদ্গলের বিনাশ সাধন করা যে পথে জীব তার পূর্বকৃত প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারে তাকে বলে নির্জরা । সংবর ও নির্জরার দ্বারা জীব তাঁর বর্তমান জীবনে মুক্তি লাভ করতে পারে।
সুতরাং জৈন মতে সংবর অনুযায়ী আসক্তি শূন্য জীবনযাপন করলে আত্মাকে নতুন কর্ম পুদগল প্রবেশ করতে পারেনা এবং নির্ভারার পথ অনুসরণ করলে সঞ্চিত কর্মে পূদ্গল ধীরে ধীরে বিনষ্ট হতে পারে তাই জৈন মতে সংবর ও নির্জারা ব্যাতিত জীবের মুক্তি লাভ সম্ভব নয়।
Thanks For Reading :
জৈন দার্শনিকদের মুক্তি সম্পর্কিত ধারণাটি ব্যাখ্যা করো
More Post:
জৈনদের মতে স্যাৎবাদ কী ব্যাখ্যা কর
জৈনদের অনেকান্তবাদ সমালোচনা সহ ব্যাখ্যা করো