ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য বাংলা রচনা পর্বে অজকের আলোচনার বিষয় হল – ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য প্রবন্ধ রচনা বা ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য অনুচ্ছেদ রচনা। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে খুব সহজ ভাবে এই রচনাটি তুলে ধরা হল।

ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য
ভূমিকা
ছাত্রজীবনে দেশপ্রেমের মূল্য অপরিসীম। দেশকে ভালোবাসার শিক্ষা ছাত্রজীবনেই গ্রহণ করতে হবে। কীভাবে এই শিক্ষা হবে? জীবনে জীবনে যোগ করতে হবে। বহুজনের হিতের ও সুখের জন্যে আত্মনিবদন করতে হবে। পারর্থে আত্মনিবেদন করার অভ্যাস গড়ে উঠলেই শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হতে পারবে । তখন তারা যথার্থ মানুষ হয়ে কবির ভাষায় বলে উঠবে-
“আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনি ‘পরে’
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”
দেশপ্রেম কি
“Patriotism is love for one’s country. It is powerful sentiment and wholly unselfish and nobel.”
কিন্তু দেশটা তো কেবল মাটি দিয়ে গড়া নয়, মানুষ দিয়ে গড়া। সুতরাং দেশকে ভালোবাসা মানে দেশের মানুষকে ভালবাসা। শিব জ্ঞানে জীব সেবার অন্য নাম দেশপ্রেম। দেশকে ভালোবাসলে এমন একটা উপলব্ধি জন্ম হয়, যার ফলে মনে হয়- ”সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।”
হৃদয়ে যখন দেশপ্রেমের সঞ্চার হয়, তখনই দেশের গৌরবে আমরা গৌরবান্বিত হই, দেশের দুঃখে ব্যথিত হই।
ছাত্রজীবনে দেশপ্রেমের মূল্য
ছাত্রজীবন হল প্রস্তুতি কাল। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল মানুষ হওয়া। কিন্তু কেবল পুঁথিগত বিদ্যা লাভ করে যথার্থ মানুষ হওয়া যায় না। তাই ছাত্রজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের নানা সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেশ ‘বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই’ চায় না, দেশ চায় যথার্থ মানুষ। মানুষ কাকে বলে?
“পরের হিতে প্রেম লাভ যার
সেইতো মানুষ, মানুষ কে আর?”
ত্যাগের মাধ্যমে ভোগই ভারতের প্রাণ ধর্ম ও জীবনধর্ম। কিন্তু এই বোধ তো সহজে উপলব্ধিতে আসে না। নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দেশের সেবামূলক কাজের মধ্যে যুক্ত থাকলে তবেই এই বোধ আসে। দেশের সেবামূলক কাজের মধ্যে সর্বভূতকে এবং সর্বভূতের মধ্যে নিজেকে উপলব্ধি করতে পারবে। তখন তারা কবির মতোই বলে উঠবে-
“হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি।
জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি।”
বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন-“দেশপ্রীতি সর্বাপেক্ষা গুরুতর ধর্ম”। ছাত্রাবস্থা থেকেই যদি শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে মানব সেবা করতে পারে তাহলে তারা বুঝতে পারবে দেশটা আমাদের নয়, আমার দেশ।
উপসংহার
মানুষের যত প্রকার প্রবৃত্তি আছে সব সেরা প্রবৃত্তি হল দেশপ্রেম। ছাত্রজীবনেই যদি এই প্রবৃত্তির জাগরণ না হয় তাহলে বড়ো হয়ে তারা সমস্ত কিছুকে নিজের দিকে টানতে টানতে প্রকাণ্ডতা লাভ করতে চাইবে।
নিজের সব কিছু উৎসর্গ করতে করতে পূর্ণতা লাভ করতে চাইবে না। শিক্ষার্থীরা দেশ ও দেশবাসীকে ভালোবাসবে এবং প্রার্থনা জানাবে-
“ও আমার দেশের মাটি
তোমার ‘পায়ে ঠেকাই মাথা
তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।”
Thanks For Reading: ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য / ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য প্রবন্ধ রচনা / ছাত্রজীবনের দেশপ্রেমের মূল্য অনুচ্ছেদ রচনা
More Post:
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা
সংবাদপত্র পাঠের প্রয়োজনীয়তা রচনা
একটি গাছ একটি প্রাণ | গাছ আমাদের বন্ধু রচনা
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার রচনা
পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা
আধুনিক জীবন ও বিজ্ঞান প্রবন্ধ রচনা