দ্বাদশ শ্রেণী বাংলা –এর চতুর্থ সেমিস্টারে সিলেবাস অনুযায়ী 5 Marks এর প্রশ্ন উত্তর। বাংলার চলচ্চিত্রে ঋত্বিক ঘটকের অবদান লেখ -এর উপর প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল।

বাংলার চলচ্চিত্রে ঋত্বিক ঘটকের অবদান লেখ
বাংলার একজন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রের ঋত্বিক ঘঠক। তাঁর পুরো নাম ঋত্বিক কুমার ঘটক। 1925 সালে 6 ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের তথা বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা শহরের ঋষিকেষ দাস লেনে তাঁর জন্ম। বাংলা চলচ্চিত্রে পরিচালকদের মধ্যে তিনি সত্যজিৎ রায় ও ছনাল সেনের সঙ্গে তুলনীয়। ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মানের কারনে তিনি প্রশাংসনীয়।
দেশভাগের ফলে স্মরনার্থী হয়ে ঘটক পরিবার কলকাতায় চলে আসেন এবং এখানে এসে ঋত্বিক ঘটক থিয়েটার ও রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। বিমল রায়ের সহযোগী হিসাবে চলচ্চিত্র সৃষ্টিতে তার প্রথম হাতেখড়ি। ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র জগতে প্রথম পা রাখেন নিমাই ঘোষের 1951 সালে নির্মিত ‘ছিন্নমূল’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। এই সিনেমায় তিনি একইসাথে অভিনয় এবং সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন। এর দু -বছর পর তাঁর একক পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘নাগরিক’ ছবিটি। দুটো চলচ্চিত্রই ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতানুগতিক ধারাকে নাড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়ে ছিল। সকল চলচ্চিত্র পরিচালকরূপে তাঁর পরিচালিত বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলি হল – ‘অযান্ত্রিক’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘সুবর্নরেখা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। এই ছবিগুলির মাধ্যমে তিনি তাঁর অনন্য সৃষ্টি সীলতার পরিচয় রেখেছিলেন এবং সমালোচক মহলে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন। ছবিগুলির মধ্যে 1957 সালের মুক্তি পাওয়া ‘অযান্ত্রিক’ ছবিটি ঘটকের শ্রেষ্ঠ নির্মান। একজন মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে সৃষ্ট সম্পর্ক নিয়েই তৈরি হয় এই সিনেমাটি। এমন চারিত্রিক উদাহরণ এর পূর্বে কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি।
ঋত্বিক ঘটক 1965 সালে স্বল্প সময়ের জন্য পুনেতে বসবাসকালে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন ইনস্টিটউড এবং ভিসিটিং প্রফেসর নামে যোগদান করেন এবং পরবর্তীকালে ভাইস প্রিন্সিপাল হন। এখানে তিনি শিক্ষকতা করার সময় ‘ফিয়ার’ এবং ‘রাধেয়’ নামে দুটি সিনেমার সাথে যুক্ত ছিলেন। ঋত্বিক ঘটক তার শিক্ষকতার জীবনকে চলচ্চিত্রকার জীবনের উপরই স্থান দিয়েছেন। তিনি নিজেই বলেছেন ‘শিক্ষকতা’ ও চলচ্চিত্রকার এই দুটিকে একটি পাল্লার দুদিকে রাখা হয় তাহলে শিক্ষকতার ওজনই বেশি হবে।
নস্টাল জিয়া ঋত্বিক ঘটক ‘তিতাস’ একটি নদীর ফিল্লে সুটিং করার সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানে তার জীবনশক্তি দ্রুত ফুরিয়ে আসে। তিনি 1976 সালের 5 ফেব্রুয়ারি কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সংবাদে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন ‘ঋত্বিক মনে প্রানে বাঙালি পরিচালক বাঙালির শিল্পী, আমার থেকে অনেকবেশি বাঙালি আমার কাছেই সেট’ তাঁর সবচেয়ে বড়ো পরিচালক।
Thanks For Reading: বাংলার চলচ্চিত্রে ঋত্বিক ঘটকের অবদান লেখ
More Post:
বাংলায় চিত্রকলায় রামকিঙ্কর বেইজ -এর অবদান
বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে নন্দলাল বসুর অবদান
বাংলা সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের অবদান সম্পর্কে লেখ
1916 খ্রিঃ লক্ষ্ণৌ চুক্তির দাবি ও শর্তগুলি কী