বি.এ. ন্যায় দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – ন্যায় মতে প্রত্যক্ষের লক্ষণ দাও এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

ন্যায় মতে প্রত্যক্ষের লক্ষণ দাও
মহর্ষি গৌতম ন্যায় সূত্রের প্রথম অধ্যায়ের চতুর্থ সূত্রে প্রত্যক্ষ প্রমাণ লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন – “ইন্দ্রিয়ার্থ সন্নিকর্ষোৎপন্নম্ জ্ঞানমব্য পদে মব্যভিচারী ব্যবসায়াত্মক প্রত্যক্ষম্। ” অর্থাৎ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সঙ্গে সেই ইন্দ্রিয়ের সন্নিকর্ষ জন্য যে অব্যাপাদেশ্য (অশব্দ), অব্যাভিচারী (অভ্রান্ত) ও ব্যবসায়াত্মক (নিশ্চয়াত্মক) জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাকে প্রত্যক্ষ বলে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই লক্ষণটি জীবজ প্রত্যক্ষের লক্ষণ, ঈশ্বরের প্রত্যক্ষের লক্ষণ নয়, কারণ ঈশ্বরের ইন্দ্রিয় নেই।
লক্ষণে প্রদত্ত ‘ইন্দ্রিয়’ বলতে চক্ষু, কর্ন, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক – এই পাঁচটি বাহ্যরিন্দ্রিয় ও মন নামক অন্তঃ রিন্দ্রিয়কে বোঝায় ‘অর্থ’ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য বিষয়। ‘সন্নিকর্ষ’ পদটির অর্থ হল সম্বন্ধ। তবে যে কোন সম্বন্ধকে সন্নিকর্ষ বলা যায় না, ইন্দ্রিয়ের সাথে তার গ্রাহ্য বিষয়ের সম্বন্ধকে সন্নিকর্ষ বলা হয়। সুতরাং ইন্দ্রিয়ের সাথে বিষয়ের সন্নিকর্ষ জন্য যে জ্ঞান উৎপন্ন হয় তাই হল প্রত্যক্ষ।
অনেক সময় দেখা যায় যে, ইন্দ্রিয়ের সাথে বিষয়ের সন্নিকর্ষ হলেও আমাদের জ্ঞান হয় না। তাই লক্ষণে কেবল ইন্দ্রিয়ার্থ সন্নিকর্ষ বিশেষণটি প্রয়োগ করলে লক্ষণটি জ্ঞান ভিন্ন পদার্থে প্রত্যক্ষের লক্ষণটির অতিব্যাপ্তি বারনের জন্য ‘জ্ঞানম্’ পদটি ব্যবহার করা হয়েছে।
‘অব্যাপদেশ্যম্’ বলতে অশব্দ অর্থাৎ যে জ্ঞানকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। যে স্থলে ইন্দ্রিয় সন্নিকর্ষ ও শব্দ – এই উভয়ের জন্য জ্ঞান জন্মায়, তাকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলে না, শব্দ জ্ঞান বলে। প্রত্যক্ষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে শব্দ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। যেমন – ‘ঘট’ প্রত্যক্ষের সময় ঘট নাম পদটির সাথে পরিচিত বোধ না থাকলেও ঘটের প্রত্যক্ষ জ্ঞান হয়। সুতরাং শব্দ জ্ঞানের প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অতিব্যাপ্তি দোষ বারনের জন্যই মহর্ষি এই সূত্রে অব্যাপ্য দেশ্যম্ তৃতীয় পদটি বলেছেন।
অব্যভিচারী কথাটির অর্থ হল অভ্রান্ত। যা বস্তুত যে পদার্থ, তাকে সেই পদার্থ রূপে প্রত্যক্ষ করা হল অব্যভিচারী প্রত্যক্ষ। যেমন – রজ্জুকে রজ্জু বলে প্রত্যক্ষ করা। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে অব্যভিচারী হতে হবে। সুতরাং ভ্রম জ্ঞানে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের লক্ষনের অতিব্যাপ্তি দোষ বারনের জন্যই মহর্ষি সূত্রেই অব্যাভিচারী পদটি উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যক্ষ জ্ঞান কেবল যথার্থ হলেই হবে না, তাকে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ সংশয়াত্মক প্রত্যক্ষ ও অব্যভিচারী হয়। যেমন – দূর থেকে কোনো একটি দ্রব্য দর্শন করে,এটি কী ধূম অথবা এটি কি ধূলি ? এই স্থলে সংশয় জন্মায়। এইরূপ স্থলে জ্ঞানটিকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলা যাবে না, কারণ এই স্থলে জ্ঞানের নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে নিশ্চিত হতে হবে। তাই মহর্ষি সূত্রে ব্যবসায়ত্মক পদটি ব্যবহার করে সংশয়াত্মক জ্ঞানের লক্ষনের অতিব্যপ্তি দোষ বারন করেছেন।
Thanks For Reading
ন্যায় মতে, প্রত্যক্ষের লক্ষণ দাও
More Post:
ন্যায় মতে লৌকিক সন্নিকর্ষ কাকে বলে
জৈনদের মতে স্যাৎবাদ কী ব্যাখ্যা কর
ন্যায় দর্শনে অলৌকিক শব্দের অর্থ কী। উদাহরণ সহ যোগে বিভিন্ন প্রকার অলৌকিক প্রত্যক্ষ গুলি লেখ।