মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব ত্রুটি ও গুরুত্ব

দ্বাদশ শ্রেণী ইতিহাস –এর চতুর্থ সেমিস্টারে সিলেবাস অনুযায়ী 6 Marks এর প্রশ্ন উত্তর। ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব, ত্রুটি ও গুরুত্বগুলি লেখ-এর উপর প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল।

মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব, ত্রুটি ও গুরুত্বগুলি লেখ
মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব, ত্রুটি ও গুরুত্বগুলি লেখ

 

ক্যাবিনেট মিশন অথবা মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব, ত্রুটি ও গুরুত্বগুলি লেখ

ভূমিকা

1946 সালে ভারতের রাজনৈতিক সংকট, সমাধান ও স্বাধীনতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ক্যাবিনেট মিশন পাঠায়। এই মিশনের 3 জন ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডারকে ভারত সফরে পাঠানো হয় তাদের লক্ষ ছিল ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করা এবং কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে সমঝতা স্থাপন করা। 

ক্যাবিনেট মিশনের মূল প্রস্তাব গুলি হল

(i) ভারতকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় দ্বিস্তর বিশিষ্ট কাঠামো হিসাবে গঠন করা হবে।

(ii) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইনসভা থাকবে। এই আইনসভা গঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত প্রদেশগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে।

(iii) কেন্দ্র সরকারের হাতে থাকবে কেবল পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগের বিষয়।

(iv) হিন্দু প্রদেশগুলিকে ‘ক’ মুসলিম প্রদেশগুলিকে ‘খ’ এবং বাংলা ও আসামকে ‘গ’ শ্রেণীতে বিভক্ত করা হবে।

(v) এই প্রদেশগুলি নিজেদের শাসনতন্ত্র নিজেরাই রচনা করবে এবং ইচ্ছা করলে একই স্বার্থ বিশিষ্ট প্রদেশগুলি জোট বাঁধতে পারবে।

(vi) একটি সংবিধান সভা গঠন করা হবে যেখানে ভারতীয় প্রতিনিধিরা সংবিধান রচনা করবে।

(vii) সংবিধান চালু হওয়ার পর যেকোনো প্রদেশ Group থেকে বেরিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা পাবে।

(viii) দশ বছর পর যেকোনো প্রদেশ স্থানীয় বা যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান পুনঃ বিবেচনার জন্য দাবী জানাতে পারবে।

মন্ত্রীমিশনের ত্রুটি

মন্ত্রী বিভিন্ন সমাধানের কথা বললেও এর বেশ কিছু দুর্বলতা ছিল। যথা

(i) এই প্রস্তাবে সরাসরিভাবে পাকিস্থানের দাবীকে স্বীকৃতি দেওয়া না হলেও প্রদেশগুলিকে হিন্দু ও মুসলিম অঞ্চলে বিভক্ত করার দরজা খুলে দেওয়া হয়। জিন্নার ভাষায়, “Believe me this is the first step to words Pakistan.”

(ii) এই প্রস্তাবে প্রাদেশিক সরকার গুলির তুলনায় কেন্দ্র সরকারকে দুর্বল করে রাখায় যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

(iii) এই প্রস্তাবে সংবিধান সভাকে সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক ক্ষমতা দেওয়া।

মন্ত্রীমিশনের গুরুত্ব

1946 সালে মন্ত্রীমিশনের প্রস্তাবগুলি বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ন ছিল। যথা- 

(i) মন্ত্রীমিশন সম্পূর্নভাবে  বুঝে গিয়েছিল যে ভারত ভেঙে পাকিস্থান গঠন করলে সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান হবে না। তাই এই মুহুর্তে ভারতকে অবিভক্ত রেখে স্বাধীনতা দেওয়াই ছিল ক্যাবিনেট মিশনের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা।

(ii) ভারতে সংবিধান প্রণয়নের সূচনা ক্যাবিনেট মিশনের মাধ্যমেই হয়।

(iii) দেশীয় রাজ্যের জনগণকে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়।

(iv) প্রদেশগুলির স্বায়ত্ত শাসনের অধিকারকে আয়ত্ব শক্তিশালী করা হয়।

(v) ভারতীয় শাসনতন্ত্র রচনার ক্ষেত্রে গণপরিষদকেই সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হয়।

(vi) মন্ত্রী মিশনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়।

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, মন্ত্রীমিশনের পরিকল্পনা ছিল ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ্য থেকে ভারতকে অবিভক্ত রেখে স্বাধীনতা পদানের শেষ আন্তরিক প্রচেষ্টা। ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভাজনে ব্যার্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এর পরিকল্পনাই দেশীয় রাজ্যের জনগণকে প্রথম ভারতের রাজনৈতিক বিষয় হিসাবে অংশগ্রহণের অধিকার দেয়।


Thanks For Reading

ক্যাবিনেট মিশন / মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাব, ত্রুটি ও গুরুত্বগুলি লেখ 

More Post:

দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল ধারণাগুলি লেখ

মন্ত্রী মিশন সম্পর্কে টিকা লেখ

ঝাঁসির রানি লক্ষীবাঈ স্মরণীয় কেন