বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা

নবম শ্রেণির বাংলা রচনা বা দশমশ্রেণির বাংলা রচনা পর্বে অজকের আলচনার বিষয় হল –বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে বিজ্ঞান ও কুসংস্কার রচনা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হল।

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা

 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা 

রহস্যময়তার প্রতি কৌতূহল এবং সেই রহস্যের কারণ অনুসন্ধান করা মানুষের এই স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যই মানবসভ্যতার ভিত্তি। রহস্যের অন্তরালে কোন সত্য লুকিয়ে আছে, কীভাবে সুতীব্র ইচ্ছা থেকেই সৃষ্টি হল বিজ্ঞানের। মানুষ জগতের শ্রেষ্ঠ জীব। সেই মানুষ জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে সভ্য হয়েছে, বহু কিছু আবিষ্কার করেছে। বিজ্ঞানকে হাতিয়ার করে মানুষ বর্তমানে রকেট, রোবট ও ইলেকট্রনিকসের যুগে পৌঁচেছে। কিন্তু কুসংস্কার থেকে মানুষ আজও সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেনি।

বিজ্ঞান চেতনার প্রয়োজনীয়তা 

‘ বিজ্ঞান ’ কথাটির অর্থ বিশেষ রকম জ্ঞান।  অজানা জানার আকাঙ্খা মানুষের চিরন্তন। যে তার জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে সব কিছুকে বিশ্লেষণ করে দেখতে চায়। তার ফলে অন্ধকার দূর হয়, সত্যের উন্মোচন হয়। নানা রকম ভুল ধারণা , অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার তা দূর করতে পারে বিজ্ঞন। বিজ্ঞান মানুষের মনের অন্ধকুসংস্কার দূর করে মানুষের মনে আলোর দিশা জাগায়, মানুষকে কর্মমুখর করে তোলে, সুতরাং জ্ঞান – বুদ্ধির বিকাশ ও সুস্থ স্বাভাবিক জীবন, যাপনের জন্য বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

বিজ্ঞানের অবদান ও জীবনের সঙ্গে যোগ 

বিজ্ঞান লক্ষ্মীর অকৃপণ দানেই সত্যতার আধুনিকতা। দৈনন্দিন জীবনে সভ্য সমাজের যে কোনো ক্ষেত্রে চোখ মেললেই দেখা যায়, সভ্যতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিজ্ঞানের অবদান। বিজ্ঞনাই মানুষকে তার গুহাজীবন থেকে ধীরে ধীরে তুলে এনেছে নগর জীবনে। সেখানে প্রাসাদ এর পর প্রসাদ উঠেছে। গড়ে উঠেছে কল – কারখানা, যানবাহন পেয়েছে গতির আনন্দ। কৃষি, শিল্প , শিক্ষা, খেলাধূলা সবক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞান বুদ্ধিই মানুষের সামনে খুলে দিয়েছে অমিত শক্তির ভান্ডার।

বিজ্ঞান মনস্কতা 

যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্কে স্থাপিত প্রমাণিত সত্য হল বিজ্ঞন। এই সত্যে যাঁরা আস্থা রাখেন, এই সত্যকে যাঁরা চিরন্তন বলে দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করেন, তাঁরা হলেন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তবে আমরা অনেকেই বিজ্ঞানমনস্ক হতে পারিনি। বিজ্ঞান শিক্ষার্থী হলেই বিজ্ঞানবোধ জন্মাবে এমন কথা ভাবা ঠিক নয়। অলৌকিক বা অলীক কল্পনায় আস্থা না রেখে প্রত্যক্ষ দর্শন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা, কার্যকারণ যোগ সূত্রের জ্ঞান, সত্য মিথ্যা যাচাই করার প্রবণতার নাম হল বিজ্ঞানমনস্কতা বা বিজ্ঞানচেতনা। বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে বিজ্ঞানের বোধ জন্মায়।

বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার 

বর্তমান মানুষ যতই সভ্য হোক, উন্নত, আধুনিক হোক না কেন অনেক ক্রান্ত সংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, অলৌকিকতা, কদাচারে বিশ্বাস করে। হাঁচি, টিকটিকির বাধায় অনেকের শুভযাত্রা আজও মাটি হয়। গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন, সতীদাহ প্রথার অন্ধত্ব ও  অসারতার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সব অন্ধকুসংস্কার সমাজদেহে দুষ্ট ক্ষতের মতো ছড়িয়ে আছে। এগুলির বিজ্ঞানসম্মত বাস্তব সভ্যতা নেই। সমাজ এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে না।

নতুন নতুন চিন্তাধারা কর্মপ্রবাহে সমাজজীবনও সদাচঞ্চল। যে সমাজে চলনধমিত আছে, আছে নতুনকে গ্রহণের মানসিকতা, সেই সমাজই এগিয়ে চলে। বৈজ্ঞানিক বোধের বিকাশেই তা সম্ভব। তথাকথিত শিক্ষা মানুষের মনের অন্ধত্ব ঘোচাতে পারে না  দূর করতে পারেনা মনের কালিমা । একমাত্র বৈজ্ঞানিক চিন্তার বিকাশেই মানুষের ভ্রান্ত ধারণার অবসান হয়।

বিজ্ঞান মনস্কতার বিকাশ 

বিজ্ঞান মনস্কতা এক বিশেষ মানস প্রক্রিয়া । সব কিছুকেই যাচাই করে নেওয়ার প্রবণতা এবং যা সত্য তা গ্রহণ করার মানসিকতা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বোধের প্রসারণ প্রয়োজন। অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় না দেওয়া, ক্রান্ত ধারণাগুলিকে মুক্তি দিয়ে খন্ডন করা, কুসংস্কারের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তোলা সম্ভব। তাই জনগণকে বিজ্ঞান মনস্ক করার জন্যে আজ সারা দেশব্যাপী চলছে জনবিজ্ঞান আন্দোলন। সারাদেশ ছাব্বিশটি জনবিজ্ঞান সংগঠনকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি জাতীয় কমিটি।

ভারতের বিজ্ঞান চেতনা 

ভারতের জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশই নিরক্ষর এখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি, বর্নভেদ, মানসিক সংকীর্নতা , অলৌকিকতা, কু – প্রথা ভারতীয় সমাজ জীবনকে অষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। আমাদের দেশে বিজ্ঞান দেতনার বিশেষ প্রসার ঘটেনি। আজও স্বামীর চিতায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হয়, দেবতাকে খুশি করার জন্য নরহত্যা করা হয়, ডাইনি সন্দেহে নিরাপরাধ নারীকে হত্যা করা হয়। রোগ নিরাময় ও সমস্যা সমাধানে কবচ – মাদুলি, পাথর, তেলপোড়া, জলপড়া, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

শিক্ষিতরাও নানারকম কুসংস্কার ও সংকীর্নতার ধারক ও বাহক। তথাকথিত শিক্ষা তাদের মনের সংকীর্নতার অন্ধকার দূর করতে পারেনি। বিজ্ঞান চেতনার প্রসার এবং কুসংস্কার দূর করার জন্য নানা চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান এবং ক্লাবগুলির অগ্রনী হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জনবিজ্ঞান জাঠা, যা সারা দেশ জুড়ে বিজ্ঞান আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে, তা নিঃসন্দেহে আশাপ্রদ। বিজ্ঞানকে জনমানসে পৌঁছে দেওয়া জনবিজ্ঞান জাঠার অন্যতম লক্ষ্য।

 উপসংহার 

সবরকম সংকীর্ণতা , ক্ষুদ্রতা, গতানুগতিকতা বিসর্জন দিয়ে সবকিছুকে যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।


Thanks For Reading: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা

আন্যান্য রচনাঃ