বাংলার উৎসব রচনা | অনুচ্ছেদ রচনা class 10

নবম শ্রেণির বাংলা রচনা বা দশমশ্রেণির বাংলা রচনা পর্বে অজকের আলচনার বিষয় হল –বাংলার উৎসব রচনা। ছাত্র ছাত্রীদের কাছে খুব সহজ ভাবে এই রচনাটি তুলে ধরা হল।

বাংলার উৎসব রচনা
বাংলার উৎসব রচনা

 

বাংলার উৎসব রচনা | অনুচ্ছেদ রচনা class 10

ভূমিকা

বাঙালীর বারো মাসে তোরো পার্বন। তাই বাঙালীর উৎসবের শেষ নেই। আসলে বাঙালীর মানসিকতা হল দূরকে নিকট করা। এই আন্তরিকতার গুনেই সবাইকে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে চায় বাঙালী। সেইজন্য ঈশ্বর গুপ্ত  যথার্থ -ই বলেছেন –“এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ তবু বঙ্গোভরা ।”শুধুতাই নয়, বাঙালীর উৎসবে বৈচিত্রও যথেষ্ট।

 উৎসবের প্রয়োজনীয়তা

উৎসবের দিনগুলি মানুষের পারস্পরিক মিলনের বৃহৎক্ষেত্র। প্রতিদিনের একঘেয়েমি জীবনে বাঁচার জন্য মানুষ উৎসবের আয়জন করেন। উৎসবের দিনে মানুষ সমস্ত ক্ষুদ্রতা, হীনতা অতিক্রম করে আনন্দের উৎসবে মেতে ওঠে অর্থাৎ প্রাণের আনন্দের  আস্বাদন পায়।

উৎসবের বৈচিত্র

বাঙালীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্রই তাদের উৎসবের বৈচিত্রকে সূচিত করে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধর্মাচরণ জীবনধারার বৈচিত্র অনুযায়ী উৎসবের বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়।

জাতীয় উৎসব

জাতীয় উৎসবগুলিতে জাতীয় সংহতি ও ঐক্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। জাতীয় উৎসবের মধ্যে রয়েছে নানান স্মরণ অনুষ্ঠান। সেগুলি হল – স্বাধীনতা উৎসব, প্রজাতন্ত্র দিবস, গান্ধীজীর জন্ম দিবস, নেতাজীর জন্ম দিবস ইত্যাদি।

সামাজিক উৎসব

বাঙালীর উৎসবের মধ্যে সামাজিক উৎসবই সবথেকে বেশি। এই শ্রেণীর উৎসবে সামাজিক মানুষ বেশি করে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে পারে। বিবাহ, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, জামাইষষ্ঠী, ভাই ফোঁটা, এই সকল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক মনমানিল্য দূর হয়ে মিলনের বন্ধন তৈরি হয়।

ধর্মীয় উৎসব

বাঙালী জাতী নানা রকম ধর্মে বিশ্বাসী। তাই ধর্মকে কেন্দ্র করে নানা উৎসবের আয়জন করা হয়। বাঙালীর প্রধান উৎসব হল দূর্গাপূজা। এছাড়া কালিপূজা , সরস্বত পূজা, লক্ষীপূজা , বিশ্বকর্মা  পূজা প্রভৃতি পূজার  আয়জন করা হয়। এই সব উৎসবে একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

ঋতু উৎসব

ঋতুর  সাথে সম্পর্ক রেখে বাঙালীরা নানান উৎসবে মেতে ওঠে। বছরের শুরুই হয় নববর্ষ পালনের মধ্যে দিয়ে নতুন ফসল কাটার সময় হয় নবান্ন ও পৌষ পার্বন। শীত ঋতুকে করে পৌষ -পার্বন। বসন্তকে কেন্দ্র করে দোলযাত্রা প্রভৃত।

উৎসবের মূল্যায়ন

বিশ্বায়নের প্রভাবে বাঙালী সংস্কৃতি যেমন পালটে যাচ্ছে তেমন উৎসবেরও পালাবদল হয়েছে। এখন উৎসব-ও বিপন কেন্দ্রিক বা মার্কেট। একথা ঠিক উৎসবকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের জীবিকার সংস্থান হয়। এদিক থেকে উৎসবের একটা অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। বর্তমান উৎসবের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরম্বর , কৃত্রিমতা এতটাই বেড়েছে যে, মানুষের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব ঘটেছে।

উপসংহার 

“বাঙালীর উৎসবের মূল চেতনা ছিল দিবে এর নিবে মিলাবে মিলিবে” -কিন্তুর এখন নেই, পারস্পরিক কল্যান কামনা। তাই উৎসব পাগল বাঙালীর অন্তরের কামনা এই হোক বাংলার উৎসব আবার সেই মিলন ও শান্তির বাণী বহন করে নিয়ে আসুক।


Thanks For Reading: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা

আন্যান্য রচনাঃ


 

1 thought on “বাংলার উৎসব রচনা | অনুচ্ছেদ রচনা class 10”

Comments are closed.