বি.এ. ন্যায় দর্শন –এর একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হল – অনুমিতির লক্ষণ দাও। অনুমিতির আবশ্যিক অঙ্গ হিসাবে পক্ষ, সাধ্য ও হেতুর পরিচয় দাও এই নিয়ে আলোচনা করা হল।

অনুমিতির লক্ষণ দাও। অনুমিতির আবশ্যিক অঙ্গ হিসাবে পক্ষ, সাধ্য ও হেতুর পরিচয় দাও।
প্রত্যক্ষের সাহায্যে কোন বস্তুকে জানার পর সেই সম্বন্ধে অন্য পদার্থকে জানাই হল অনুমিতি। মহর্ষি গৌতম বলেছেন, ‘অতঃ তৎ পূর্বকমনুমানম্’ অর্থাৎ প্রত্যক্ষের পরে যে যথার্থ জ্ঞান হয় তাই হল অনুমান। অন্নংভট্ট অনুমিতির লক্ষণে বলেছেন, ‘পরামর্শ জন্যং জ্ঞানম্ অনুমিতি’ অর্থাৎ পরামর্শ জন্য যে জ্ঞান তাই হল অনুমিতি।
একটি অনুমিতির তিনটি পদ থাকে। এই পদগুলি হল –
পক্ষ
অনুমিতি বাক্যের উদ্দেশ্য হল পক্ষ। যেমন – ‘পর্বতে বহ্নি আছে ‘ এই বাক্যে পর্বত উদ্দেশ্য বলে পর্বত পক্ষ। অন্নংভট্ট পক্ষের লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন – ‘সন্ধিগ্ধ সাধ্যবান্ পক্ষঃ’ অর্থাৎ যেখানে সাধ্য বিষয়ে সন্দেহ জাগে তাকে পক্ষ বলে।
সাধ্য
পক্ষে যাকে প্রমাণ করা হবে তাই হল সাধ্য। অন্য ভাবে বলা যায়, অনুমিতি বাক্যের বিধেয় হল সাধ্য। যেমন – ‘পর্বতে বহ্নি আছে’ এখানে বহ্নি বিধেয় বলে বহ্নি সাধ্য।
হেতু
যে পদ ন্যায় অনুমানের সাধ্য ও পক্ষের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করে তাকে হেতু বলে। যেমন – ‘পর্বতে বহ্নি ব্যাপ্য ধূম আছে।’ এখানে ধূম দেখে বহ্নির অনুমান করা হয় বলে ধূম হল হেতু।
Thanks For Reading
অনুমিতির লক্ষণ দাও। অনুমিতির আবশ্যিক অঙ্গ হিসাবে পক্ষ, সাধ্য ও হেতুর পরিচয় দাও
More Post:
ন্যায় মতে লৌকিক সন্নিকর্ষ কাকে বলে
ন্যায় দর্শনে অলৌকিক শব্দের অর্থ কী
ন্যায় মতে প্রত্যক্ষের লক্ষণ দাও