উদারনীতিবাদ কাকে বলে / এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ

দ্বাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর চতুর্থ সেমিস্টারে সিলেবাস অনুযায়ী 6 Marks এর প্রশ্ন উত্তর। উদারনীতিবাদ এর উপর প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল। সম্পূর্ণ প্রশ্ন হল উদারনীতিবাদ কাকে বলে ? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ। 

উদারনীতিবাদ কাকে বলে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।
উদারনীতিবাদ কাকে বলে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।

উদারনীতিবাদ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।

সংজ্ঞা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় উদারনীতিবাদের অর্থ হল রাষ্ট্রীয় কতৃত্বের বিরোধিতা করা এবং ব্যক্তির অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতাই হল উদার নীতিবাদের মূল বিষয়। ব্যানথাম, মিল, গ্রিন, রবার্ট ডাল প্রমুখেরা হলেন উদারনীতিবাদের মূল প্রবক্তা।

মূল বৈশিষ্ট্য

স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা

উদারনীতিবাদে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা, স্বাধীন মতামত প্রকাশ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রকৃতিকে জীবনের স্বাধীনতা বলে মনে করা হয়েছে। একইসাথে ব্যক্তির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা

উদারনীতিবাদে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই দ্বিধা বোধ করে না।

মানব প্রগতি

মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাবই হল মানব প্রগতির মূল চাবিকাঠি।

শান্তিপূর্ন বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন

ক্ষমতার রাজনীতিকে বর্জন করে শ্বাসত ও সর্বজন স্বীকৃত একটি শান্তিপূর্ন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তজার্তিক সম্পর্কে অগ্রগতি সম্ভব বলে ভাববাদীরা মনে করেন।

আন্তজার্তিক আইন প্রতিষ্ঠা

ভাববাদীদের মতে একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে ন্যায় ও নৈতিকতার মাধ্যমে। তাই স্বাধীনতার কারণে ভাববাদীরা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দর্শন, আইন ও প্রজ্ঞার উপর। ভাববাদীদের এই প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ গড়ে উঠেছে জাতি সংঘ / লিগ অব নেশন।

নৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন

প্রকৃতিগত দিক থেকে সমাজ ব্যবস্থাকে আদর্শ জায়গায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক ও যুক্তি সংগত বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনের কথা ভেবেছেন ভাববাদী দার্শনিকরা শিক্ষা, সংস্কার এবং প্রয়জন বোধে বল প্রয়োগের মাধ্যমে নৈতিক ও যুক্তিসংগত বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা

ভাববাদীদের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তজার্তিক ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের অবসানের কথা বলেছেন। নৈরাজ্যের অবসান ঘটলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে বিবাদ মিমাংশের মাধ্যমে যুদ্ধ মুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে পারে।

উপসংহার

তবে 1930 -এর দশক থেকে আন্তজার্তিক রাজনীতিতে জাতির স্বার্থের প্রাধান্য, ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসীবাদের উত্থান, অর্থনৈতিক মহামন্দা প্রভৃতি আন্তজার্তিক সম্পর্কের চর্চায় ভাববাদ -এর অকার্যকারিতা প্রকাশ পেয়েছে।



Thanks For Reading: উদারনীতিবাদ কাকে বলে ? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।

More Post:

দ্বাদশ শ্রেণি দর্শন সেমিস্টার ৪ দর্শন

আন্তজার্তিক সম্পর্কে মার্কসবাদ ও বস্তুবাদ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতির পার্থক্য

মনসবদারী ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর


 

Leave a Comment