মনসবদারী ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

একাদশ শ্রেনী ইতিহাস এর দ্বিতীয় সেমিস্টারে সিলেবাস অনুযায়ী 6 Marks এর মনসবদারী ব্যাবস্থা উপর প্রশ্ন উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল।

মনসবদারী ব্যাবস্থা
মনসবদারী ব্যাবস্থা

 

মনসবদারী ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

ভূমিকা 

মনসব কথাটির  অর্থ হল পদমর্যদা বা Rank। এই পদমর্যদার অধিকারীদের মনসবদার বলা হয়। মনসবদারী প্রথা একটি পারসিক প্রথা। আকবরের সাম্রাজ্যের সামরিক ও বেসামরিক কাজকর্মের ভিত্তি হিসাবে 1577 সালে মনসবদারী ব্যবস্থা চালু করেণ।

মনসবদারী প্রথা প্রবর্তনের কারণ 

সম্রাঠ আকবর কতকগুলি উদ্দেশ্য মনসবদারী প্রথা প্রবর্তন করেন।

  1. সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে মনসবদারী প্রথা প্রবর্তন করেন।
  2. যাইগীরদার প্রথার দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য মনসবদারী প্রথা প্রবর্তন করেন।
  3.   নির্দিষ্ট পরিমাণ সামরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করার জন্য এই প্রথার প্রবর্তন করা হয়।

মনসবদারী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য 

মোঘল সম্রাট আকবর প্রবর্তিত মনসবদারী ব্যবস্থার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় –

  1. আকবর মনসবদারদের সৈন ও অস্ম সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমস্ত ব্যবস্থাটিকে 33 টি স্তরে বিভক্ত করেন।
  2. মনসবদারদের পদ বংশানুক্রমিক ছিল না। মনসবদারদের নিয়োগ ,পদন্যতি, পদচ্যুতি সবই সম্রাজের উপর নির্ভরশীল ছিল।
  3. আকবর মনসবদারী প্রথার মধ্যে আলাউদ্দিন খলজি প্রবর্তিত দাগ ও হুলিয়া প্রথা পুনরায় প্রবর্তনের জন্য সেনাবাহিনীতে দক্ষ সেনা ও ঘোড়া রাখার ব্যবস্থা করেন।
  4. মনসবদাররা ছিল সরকারী কর্মচারী। তারা সামরিক ও অসামরিক উভয় পদেই নিযুক্ত থাকতেন।
  5. সম্রাট জাহাঙ্গির মনসবদারদের ঘোড় সত্তয়ার সেনাদের ভড়ন পোষনের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেন । এছাড়া তিনি দুই ঘোড়ার সত্তায়ারি এবং তিন ঘোড়ার সত্তয়াড়ি প্রথা চালু করেন।

মনসবদারী প্রথার গুরুত্ব 

  1. মনসবদারী প্রথার মাধ্যমে সামরিক, প্রশাসনিক ও অভিজাততন্ত্রের সমন্বয় সাধন করা সহজ হয়। এরই ফলস্রুতিতে মুঘল সাম্রাজ্য দীর্ঘ 200 বছরের অধিক স্থায়ী হয়েছিল।
  2. মনসবদারের পথ বংশানুক্রমিক না হওয়ায় সর্বদা যোগ্য ব্যাক্তিরা এই পদ লাভ করার সুযোগ পেত। তাছাড়া সামন্ত প্রথার উদ্ভব ঘটেনি।
  3.   আকবর ও তার পরবর্তী মুঘল সম্রাট গণ মনসবদারী প্রথার মাধ্যমে এক বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।
  4. জাতিভিত্তিক মনসবদারী প্রথা চালু হওয়ার ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন জাতি কতৃক সম্রাটের বিরোধিতার পথ বন্ধ হয়। তাছাড়া বিদেশী অভিজাতদের আধিপত্য নষ্ট নয়।

সুতরাং বলা যায় যে, আকবর প্রবর্তিত মনসবদারী ব্যবস্থা সম্পূর্ন ভাবে নতুন একটি ব্যবস্থা হলেও তা পুরনো একটি প্রথা। মুঘোল সাম্রাজ্যে দীর্ঘকাল স্থায়িত্ব নির্ভরশীল ছিল মনসবদারী প্রথার উপর।


Thanks For Reading: মনসবদারী ব্যাবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।