একাদশ শ্রেনী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শনের প্রশ্নউত্তর পর্বে আজকের আলচনার বিষয় হল-স্বামী বিবেকানন্দ কর্তব্য বলতে কী বুঝিয়েছেন ? সংসারের ক্ষেত্রে কর্তব্য সম্পর্কে তাঁর নির্দেশ কী ? এটি ৬ Marks এর প্রশ্নউত্তর হিসাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উত্তর। এটি কর্মযোগ স্বামী বিবেকানন্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। class12 philosophy semester 4.

স্বামী বিবেকানন্দ কর্তব্য বলতে কী বুঝিয়েছেন ? সংসারের ক্ষেত্রে কর্তব্য সম্পর্কে তাঁর নির্দেশ কী ?
বিবেকানান্দের মতে কর্তব্য
স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের তত্ত্ব বুঝতে হলে আমাদের জানা আবশ্যক যে, কর্তব্য কাকে বলে। আমাদের যদি কিছু করতে হয়, তবে প্রথমেই জানতে হবে এটা আমাদের কর্তব্য, তবেই আমরা তা করতে পারব। কর্তব্য জ্ঞান আবার বিভিন্ন জাতির মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন। মুসলমান বলেন, তাঁদের শাস্ত্র কোরানে যা লিখিত আছে তাই তাঁর কর্তব্য। হিন্দু বলেন, তাঁর বেদে যা লিখিত আছে তাই তাঁর কর্তব্য। খ্রিষ্টান বলেন, তাঁর বাইবেলে যা লেখা আছে তাই তাঁর কর্তব্য। সুতরাং জীবনের বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন যুগে ও বিভিন্ন জাতির ভিতরে কর্তব্যের ভাব ভিন্ন ভিন্ন। তাই অন্যান্য সার্বভৌম ভাববোধক শব্দের ন্যায় ‘কর্তব্য’ শব্দের স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া অসম্ভব। কর্মজীবনে কর্তব্যের ফলাফল লক্ষ করেই আমরা কর্তব্য সম্পর্কে ধারনা লাভ করতে পারি।
সংসারের ক্ষেত্রে কর্তব্য
ব্যক্তিনিরপেক্ষভাবে কর্তব্যের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়। আবার এটি কর্তব্য, এটি অকর্তব্য এমন বিচার করে কর্তব্য নির্ধারন করা যায় না। তবে ব্যক্তি বা আধ্যাত্মের দিক থেকে কর্তব্যের লক্ষন নির্নয় করা যেতে পারে। যে কোন কার্য ভগবানের দিকে নিয়ে যায়, তা সৎকার্য এবং যেকোন কার্য যা নিম্ন দিকে নিয়ে যায়, তা অসৎ- কার্য আধ্যাত্মবাদের দিক থেকে আমরা দেখতে পাই, কতকগুলি কার্য আমাদের উন্নত ও মহান করে, আর কতকগুলি কার্য আমাদের অবনত ও পশুভাবাপন্ন করে। কিন্তু সকল ক্ষেত্রে সকল ব্যক্তির পক্ষে কোন্ কার্যের দ্বারা কিরূপ ভাব আসবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে সকল যুগের, সকল সম্প্রদায়ের, ও সকল দেশের মানুষ কর্তব্য সম্বন্ধে একটি ধারনা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, সেই ধারণাটির সংস্কৃত শ্লোকার্থ হল – “পরোপকারঃ পুন্যায় পাপয় পরপীড়নম্”
কর্তব্য প্রধানত আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা নির্ধারিত হয়। কর্তব্যের ভিতর কিছু বড় – ছোট থাকতে পারে না। সকাম কর্মীরা তাদের অদৃষ্টে যে কর্তব্য পড়ছে, তাতে বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু অনাশক্ত কর্মীদের কাছে সকল কর্তব্যই সমান। যেকোন কর্তব্য আসুক না কেন তারা সর্বান্তঃ করনে কর্তব্য সম্প্রাদানের জন্য প্রস্তুত।
সকল বস্তুতে ঈশ্বর বুদ্ধি করো, সর্বভূতেই তিনি আছেন জেনে, নিজের জীবনকেও ঈশ্বররূপ চিন্তা করো বেদান্ত নির্দেশিত এমন কর্মই আমাদের একমাত্র কর্তব্য, আমাদের একমাত্র জিজ্ঞাসা। কারন ঈশ্বর সকল বস্তুতেই বিদ্যমান।
কোন প্রকার কর্তব্য কর্মই তুচ্ছ নয়। নিম্নতর কার্য করে বলে একজন যে উচ্চতর কাজ করে তার তুলনায় নিম্নস্তরের হয় না। স্বামীজী বলেছেন – কে কিরূপ কর্তব্য করছে তা দেখে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়, সেই কর্তব্য সে কীভাবে সম্পাদন করছে তা দেখে বিচার করা উচিত। ঐ কার্য করার ধরন এবং শক্তিই মানুষের যথার্থ পরীক্ষা। প্রত্যহ আবোল তাবল বকে এমন একজন অধ্যাপক অপেক্ষ যে মুচি নিজের ব্যবসায় ও কর্তব্য কার্য অনুসারে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজোড়া সুন্দর মজবুত হাতা প্রস্তুত করতে পারে, সে বড়। সুতরাং প্রত্যেক কর্মই পবিত্র এবং কর্তব্য নিষ্ঠাই ইশ্বরের শ্রেষ্ঠ উপাসনা।
আমাদের অতি নিকটে যে কর্তব্য রয়েছে – যা এখন আমাদের হাতে আছে তা উত্তমরূপে সম্পাদন করার মধ্য দিয়েই আমারা ক্রমশ শক্তিলাভ করি। এভাবে ধীরে ধীরে শক্তিবৃদ্ধি করে আমরা এমন এক অবস্থায় উপনীত হতে পারি যে, জীবনের ও সমাজের সর্বাপেক্ষা সম্মানজনক কর্তব্য সম্পাদনের অধিকার লাভ করব।
Thanks For Reading: স্বামী বিবেকানন্দ কর্তব্য।
Related Post:
- বিবেকানন্দের কর্মযোগ ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত
- রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের উৎস গুলির পরিচয় দাও
- মানবতাবাদ কী | রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতাবাদ