বিবেকানন্দের কর্মযোগ ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত

একাদশ শ্রেনী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শনের প্রশ্নউত্তর পর্বে আজকের আলচনার বিষয় হল- বিবেকানন্দের কর্মযোগের ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত। এটি ৬ Marks এর প্রশ্নউত্তর হিসাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উত্তর। এটি কর্মযোগ স্বামী বিবেকানন্দ থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিবেকানন্দের কর্মযোগের ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত
বিবেকানন্দের কর্মযোগের ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত

 

বিবেকানন্দের কর্মযোগের ভিত্তি হল প্রয়োগমূলক বেদান্ত

স্বামী বিবেকানন্দ হলেন অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের একজন আধুনিক ভাষ্যকার। প্রয়োগমূলক অদ্বৈত বেদান্তের চিন্তাধারা তাঁর দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে। বেদান্ত দর্শনের মূল ভিত্তি হল – উপনিষদ, শ্রীমদ্‌ভগবদতগীতা, ও ব্রহ্মসূত্র নামক প্রস্থানত্রয়। স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন চিন্তাকে সূক্ষ ভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তাঁর দর্শনচিন্তার ধারক হল প্রস্থানত্রয়। “স্বামীজীর ভক্তিযোগ ও কর্মযোগ। তবে তিনি কর্মযোগের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।”

কর্মযোগের অর্থ ও বেদান্ত 

‘কর্মযোগ’ – শব্দটি বিশ্লেষণ করলে কর্মের কৌশলকে ইঙ্গিত করে। ‘কর্ম’ – কথার অর্থ কাজ এবং ‘যোগ’ কথাটির অর্থ হল কর্মের কৌশল। অর্থাৎ কর্মযোগ হল কর্মের কৌশল আয়ত্ত করা। কর্মের কৌশলটি হল ফলাফলের লাভ ক্ষতির আশা ত্যাগ করে সমবুদ্ধি হয়ে কর্ম করা অর্থাৎ কর্ম করবে, অথচ কর্ম ফলের আশা করবে না। অদ্বৈত বেদান্তের এমন চিন্তাধারার প্রতিফল ঘটেছে স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ।

কর্মযোগের আত্মজ্ঞান ও বেদান্ত 

মনুষ্যজীবন কর্মদ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ মানুষ কর্মকে কখনো এড়িয়ে যেতে পারে না। আর কর্ম জন্য যে ফল উৎপন্ন হয় সেই ফলভোগ এক জন্মে সম্ভব না হলেও, জন্ম জন্মান্তর ধরে চলতে থাকে। জন্ম হল আত্মার শরীর ধারণ এবং মৃত্যু হল আত্মার শরীরমুক্তি আত্মজ্ঞানে মানুষের এমন উপলব্ধি হয়।

আধ্যাত্মিক শিক্ষারউৎসও কর্মযোগ

বিবেকানন্দ তাঁর কর্মযোগে বলেছেন – মানুষের জীবনের কর্মই হল আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাঠশালা। যদি কেবলমাত্র সাংসারিক লাভের জন্য কর্ম করা হয়, তাহলে আত্মার বন্ধন বেড়ে যায়, আর যদি আত্মজ্ঞানের জন্য কর্ম করা হয়, তাহলে বেদান্তের মূলভাব জাগরিত হয়। বেদান্তের মূলভাব হল – আমিই ব্রক্ষ (অহং ব্রহ্মাস্মি) এখানেই বিবেকানন্দের কর্মযোগের ক্ষেত্রে বেদান্তের মূলভাব নিহিত করেছেন।

নিষ্কাম কর্ম ও বেদান্ত 

বেদান্তের নিষ্কাম কর্মের ধারনাটি বিবেকানন্দের কর্মযোগের প্রতিফলিত হয়েছে। স্বার্থযুক্ত কর্ম হল ক্রীতদাস সুলভ কর্ম। আর নিঃস্বার্থ কর্ম হল আদর্শগত কর্ম। নিষ্কাম কর্মই হল কর্মযোগ এবং কর্মযোগের অনুষ্ঠানই মানুষকে ব্রহ্মে নিকটে নিয়ে যায়।

সুতরাং স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের ধারণার ভিত্তি হল প্রয়োগমূলক বেদান্ত।


Thanks For Reading: বিবেকানন্দের কর্মযোগের ভিত্তি প্রয়োগমূলক বেদান্ত